বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার পাল্টা দিদির দূতে শনিবার ঘাটালে রোড শোতে বাজিমাত অভিষেকের

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৭ ফেব্রুয়ারি: বিকেল পৌনে তিনটে নাগাদ হেলিকপ্টারে ঘাটাল অরবিন্দ স্টেডিয়ামে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর সড়ক পথে ঘাটালের দাসপুরের সীমানা নিমতলায় পৌঁছে যান। সেখানে দুপুর থেকেই তাঁকে স্বাগত জানাতে বর্ণময় শোভাযাত্রা নিয়ে হাজির ছিলেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুঁইঞা, ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দলুই, দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইঞা, শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো সহ জেলার তৃণমূল বিধায়ক, বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। 

এদিন সকাল থেকেই তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসাহ, উদ্দীপনা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছাতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তাঁরা। জাতীয় পতাকার রঙের বেলুনের গাছ, অভিষেক ব্যানার্জি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ব্যানার, পতাকা, ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয়েছিল। সওয়া তিনটে নাগাদ রোড শো শুরু হয়। নীল সাদা রঙের ‘দিদির দূত’ লেখা গাড়িতে ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। মিছিল যতই এগিয়েছে ততই বেড়েছে এর বহর। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তা যেতে ঘন্টা দেড়েক সময় লেগে যায়। কোথাও গ্রামের ধান জমির পাশের বাংলা সড়ক যোজনার পাকা রাস্তা, কোথাও ঘাটাল পুরসভা এলাকার পিচ ও ঢালাই রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলে রোড শো। রাস্তার দুপাশে অগুনতি মানুষ। কেউ হাত নেড়ে, কেউ প্রণাম জানিয়ে স্বাগত জানান তাঁকে। তিনিও কখনো হাত নেড়ে কখনো নমস্কার জানিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিকেল পাঁচটা নাগাদ রোড শো বিবেকানন্দ মোড়ের কাছে থামল। এখানে তিনি বার্তা দেন, যাঁরা আপনাদের ভালোবাসা, আবেগ, অহঙ্কার, গর্বকে দিল্লির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এবারের নির্বাচনে তাঁদের জবাব দিতে হবে। 

দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী দিনে তৈরি থাকুন। আপনিও আপনার দল ৫ বছরের জন্য গণতান্ত্রিক ভাবে মুছে যাবেন। বাংলার মানুষ সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। বারে বারে বাংলায় এসে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নেতাদের বিভিন্ন বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারাকে কটাক্ষ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ দিনের বেলায় কলাপাতায় দোস্তি, আর রাতে জমকালো পাঁচ তারা হোটেলে মস্তি। এই হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি।’
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তিনি বলেন,’একজনকে ইডি, সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়েছে। ভাবছে আমিও ভয় পাব। আমিও মানুষ। সেও মানুষ। পার্থক্য শুধু শিরদাঁড়ায়।’ তিনি এও বলেন যে, মেদিনীপুর কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। প্রত্যেক এলাকার সঙ্গে সেখানকার মানুষের ভাবাবেগ জড়িয়ে থাকে। একে কেউ নিজের বলে জাহির করতে পারেন না। এরপরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়,’আমার গলা কেটে ফেললেও জয় হিন্দ, জয় বাংলা, তৃণমূল জিন্দাবাদ, মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ বেরবে। তাই আমাকে ধমকে চমকে লাভ নেই। ‘ 

মেদিনীপুরের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাতঙ্গিনী হাজরা, ক্ষুদিরাম বসু, সতীশ সামন্ত, সুশীল ধাড়ার মতো মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মেদিনীপুরের আত্মবলিদান, ঐতিহ্যকে, গরিমাকে যাঁরা দিল্লির বুকে বিক্রি করে এখানকার মানুষের আত্ম সম্মানকে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন তাঁদের যোগ্য জবাব দিতে হবে। 

এদিনের ভিড়কে উদ্দেশ্য করে তিনি জানান, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৫- ০ করতে হবে। আর এজন্য আগামী এক মাসে তাঁকে যদি আরও ২০ বার আসতে হয় তিনি আসবেন, মিটিং করবেন, পায়ে পা মিলিয়ে মিছিল করবেন। সভা করবেন, তবুও এক ইঞ্চি জমি ছাড়বেন না। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *