পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ এপ্রিল: কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের জোরদার প্রচার রবিবার নতুন মাত্রা পেল। পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুরে আয়োজিত বিশাল জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে উৎসবের আবহ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানার—সব মিলিয়ে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষত মহিলাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
দলীয় সূত্রের দাবি, এদিনের সভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। কেশপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে কর্মীদের নিয়ে আসতে বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেশপুরে এক লক্ষের বেশি ভোটে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, “কেশপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব আমার। গত কয়েক বছরে এখানে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। আগামী দিনে এই ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং “দুয়ারে উন্নত মানের স্বাস্থ্য শিবির” পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি সিপিএম ও বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, কেশপুরে অতীতের অপশাসন ফিরিয়ে আনার কোনও সুযোগ নেই এবং “যতদিন কেশপুর আছে, ততদিন বিজেপি বা সিপিএম মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে কেশপুরবাসীকেই একজোট হয়ে জবাব দিতে হবে।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিজেপির অবস্থানকেও কটাক্ষ করেন তিনি। “মানুষ কী খাবে, তা দিল্লি থেকে ঠিক হবে না—কেশপুরের মানুষই তা ঠিক করবে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সভা থেকে বুথভিত্তিক লড়াইয়ের ডাক দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রত্যেক বুথে সংগঠিত হয়ে লড়াই করুন। এমন জবাব দিন যাতে বিরোধীরা তার ফল বুঝতে পারে।”
শেষে তিনি কেশপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “২১, ২৩, ২৪—প্রতিবারই আপনারা আশীর্বাদ করেছেন। কাজের মাধ্যমে সেই আশীর্বাদের মূল্য দেওয়া হবে।”

