অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৮ মার্চ: “দিলীপ ঘোষ বলছে স্বাস্থ্য সাথী ভাঁওতা, কিন্তু ঝাড়গ্ৰামে দিলীপ ঘোষের দাদা বৌদি ভাই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করে বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবা। আর পাশের জেলা পুরুলিয়ার সাংসদের পরিবারও করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের কার্ড।” শুক্রবার নয়াগ্ৰামের খড়িকামাথানী নেতাজি ফুটবল মদদানে তৃণমূলের নয়াগ্ৰাম বিধানসভার প্রার্থী দুলাল মুর্মু এবং গোপীবল্লভপুর বিধানসভার প্রার্থী ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ মাহাতর সমর্থনে ভোট প্রচারে এসে জঙ্গলমহলের বিজেপিকে এভাবেই বিঁধলেন যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্য দিয়ে আরও দাবি করেন, বিজেপি যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কথা বলছে সেখানে বাংলার সাড়ে দশ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র এক কোটি মানুষ সুবিধা পাবেন। বাড়িতে মোটরসাইকেল, স্মার্ট ফোন, পাকা ছাদ থাকলে স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা মানুষ পাবে না। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছেন। সঙ্গে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এদিন খড়িকামাথানীর জনসভা থেকে বলেন, বিজেপির উন্নয়ন মানে কৃষক আত্মহত্যা আর কিশোরী গণধর্ষণ, বিজেপির উন্নয়ন মানে নারী নির্যাতন, বিজেপির উন্নয়ন হল মানুষের পাত খালি আর শুধু বড় বড় ভাষণ। একদিকে ভাষণ অন্যদিকে রেশন, একদিকে অনাচার অন্যদিকে শান্তি কোনটা আপনারা গ্রহণ করবেন সেটা আপনাদের ব্যপার। এভাবেই এদিন বিজেপিকে তুলোধুনো করেন যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ১৯ সালের পর থেকে তো ঝাড়গ্ৰামের লোকসভা সিটটি জিতে বসে আছেন এখানকার সাংসদ কুনার হেমব্রম, কিন্তু করোনার দুর্দিনে মানুষের পাশে দেখা যায়নি সাংসদকে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখুন বাংলায় বিগত ১০ বছরে উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন। বহিরাগত বিজেপি নেতারা বলছেন, তারা সোনার বাংলা গড়বে। কিন্তু উত্তর প্রদেশ গুজরাট অসম ত্রিপুরা ইত্যাদি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি সোনার হল না কেন? প্রশ্ন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একমাত্র সোনার বাংলা গড়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়। এবং তিনিই তৃতীয়বারের জন্য বাংলার ক্ষমতায় আসবেন। ক্ষমতায় এসে বিজেপির মত ছয় হাজার টাকা নয়, আগামী দিনে কৃষকদের জন্য একর প্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেবেন। ছাত্র ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষ্যার জন্য ক্রেডিট কার্ড দেবে ৪% সুদে। গ্রাম কিংবা শহরের মানুষদের আর রেশন দোকানে যেতে হবে না। দুয়ারে রেশন পৌছে দেবে। বিজেপি বলেছিলো চাকরি দেবো কিন্তু তারা চাকরি
দেয়নি। রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে এবারের ভোটে গোল্লা দেবেন।

রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, মোদী বাবুর রিপোর্ট কার্ড কোথায়? উনি বলছেন খেলা নয় উন্নয়ন হবে? বিজেপির উন্নয়ন মানে গণহত্যা, বেকারত্ব।একদিকে উন্নয়ন একদিকে অশান্তি। একদিকে বহিরাগত। একদিকে বাংলা নিজের মেয়েকেই চাই। আপনারা কোনটা চান সেটা ভেবে দেখবেন। তৃণমূল সাংসদ বলেন, মে মাসের ২ তারিখ যখন ফল বের হবে তখন বিজেপি চোখে সর্ষেফুল দেখবে।

