সুশান্ত ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৪ আগস্ট: প্রাণের প্রিয় ছিল ক্রিকেট, সেই ক্রিকেট বলের আঘাতেই প্রাণ গেল যুবকের। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর পেট্রাপোল থানার জয়ন্তীপুরের বাসিন্দা হাবিব মণ্ডল ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিল দিল্লিতে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য বাড়ি থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয় হাবিব। দিল্লিতে পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল তার।
১৯ আগস্ট সকাল বেলা প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হয়। প্রথম প্রস্ততি ম্যাচে হাবিব যে দলের হয়ে খেলছিল সেই দলের প্রথম উইকেটের পতনের পর তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তৃতীয় ওভারে ব্যাট করতে নামে হাবিব। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে বিপক্ষ দলের একজন পেসারের বল এসে হাবিবের বাঁদিকের বুকের পাজরে লাগে। পিচের উপরেই লুটিয়ে পরে হাবিব এবং জ্ঞান হারায়। সাথে সাথে সতীর্থ খেলোয়াড়রা হাবিবকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হাবিবকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভেতরে নিয়ে যায় এবং সতীর্থদের বসতে বলে। তারপর কিছু সময় পর চিকিৎসকরা এসে সতীর্থদের জানায় হাবিব মারা গেছে।

পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৯ আগস্ট শুক্রবার সকালে পরিবারের কাছে ফোন আসে বুকে বল লেগে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হাবিবকে তার কিছু সময় পর তারা জানতে পারেন হাবিব মারা গেছে। হাবিব বিয়ের পর উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার রাউতারা গ্রামে স্কুলপাড়া এলাকায় থাকতো স্ত্রীকে নিয়ে। সেই বাড়ি থেকেই গত ১৫ আগস্ট খেলার জন্য দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সে। তারপর ১৯ আগস্ট সকালে পরিবারের কাছে হাবিবের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। হাবিবের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার, শোকাহত গ্রামের মানুষ।
এই বিষয়ে হাবিবের স্ত্রী নীলিমা মন্ডল বলেন, “খেলতে খুব ভালোবাসতো হাবিব, বলতো খেলতে গিয়ে যদি প্রাণও চলে যায় যাক, সেই খেলাই প্রাণ কেড়ে নিল ওর।”

