সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৪ আগস্ট: বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে ভ্যানে করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হল এক যুবতীকে। পরে অচৈতন্য অবস্থায় তাকে এক নির্জন আম বাগান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রা। যুবতীর শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। মাঝে মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল থানা এলাকায়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বনগাঁ পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের চাঁপাবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ২০ বছরের ওই যুবতী। শুক্রবার রাতে বাড়িতে ফেরার জন্য বনগাঁ থানার কাছে একাকী ঘোরাঘুরি করছিলেন। এই সময় একজন যুবক তাঁকে একটি ইঞ্জিন ভ্যানে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে তাকে তুলে পেট্রাপোল থানার খলিতপুর গ্রামে নিয়ে যায়। এরপর ওই এলাকায় একটি আম বাগানে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপরে শারীরিক নির্যাতন চালায় ও ধর্ষণ করে। তারপর তাকে অচৈতন্য অবস্থায় বাগানের ভেতরে ফেলে রেখে চলে যায় ওই দুষ্কৃতী। পরে ওই যুবতীকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে তৃণমূল, বাম নেতৃত্বের পাশাপাশি বনগাঁ হাসপাতালে নির্যাতিতাকে দেখতে যান বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপ্তি সরকার ও বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল। তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতেও যান। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীর অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি যে কোনও রকমের সহযোগিতার জন্য নির্যাতিতার পরিবারের পাশে তাঁরা দাঁড়াবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপ্তি সরকার জানান যে, ওই যুবতী এখনও পর্যন্ত অচৈতন্য অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাঝেমধ্যে তাঁর জ্ঞান ফিরছে। এরকম অবস্থাতেই সে গতকাল রাতের ঘটনার কথা জানায়। এ ব্যাপারে যুবতীর বাবা পেট্রাপোল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তের সন্ধান চালাচ্ছে।

