স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ২৭ মার্চ:
৩৪ নং জাতীয় সড়কের পাশে একটি লজে এক যুবককে গলার নলি কেটে খুন করলো দুষ্কৃতিরা। নদিয়ার ধুবুলিয়া বটতলার ঘটনা। নিহত যুবকের নাম সৌরভ কীর্তনীয়া (২২)। শুক্রবার রাতে পুলিশ ওই যুবকের দেহটি একটা লজ থেকে উদ্ধার করে।
সূত্রের খবর, খুন হওয়া যুবকের বাড়ি তেহট্ট থানার বেতাই কড়ুইগাছি রথতলাপাড়া গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানাগেছে, সৌরভ গত ২৪ মার্চ মোবাইল সারাইয়ের জন্য কৃষ্ণনগরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। কিন্তু ওই দিন বিকালে ৩০ লক্ষ টাকা চেয়ে সৌরভের বাবা শ্যামল কীর্তনীয়ার কাছে একটা ফোন আসে। ফোন পাওয়ার পর সেদিনই সন্ধ্যায় তেহট্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সৌরভের বাবা। তারপর থেকে একাধিকবার মুক্তি পণ চেয়ে ফোন আসতে থাকে সৌরভের বাবার কাছে। মুক্তিপণের কল রেকর্ডডিংও পুলিশকে শোনানো হয় বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

অবশেষ পুলিশ ফোনের টাওয়ার লোকেশন চিহ্নিত করে জানতে পারে তাদের অবস্থান। শুক্রবার গভীর রাতে ধুবুলিয়া বটতলায় ৩৪ নং জাতীয় সড়কের পাশের একটি লজের বাথরুমে মৃত অবস্থায় সৌরভকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে আগেই পালিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। সূত্রের খবর, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরে গলার নলি কেটে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সৌরভ বেতাই আম্বেদকর কলেজ থেকে বিয়ে পাশ করেছে। পরিবারে বাবা-মার সঙ্গেই থাকতো সৌরভ। আছে একমাত্র বিবাহিত বোন। গ্রামে তাদের একটি ধান ভাঙ্গানো কল রয়েছে। সেইসঙ্গে আছে সামান্য কিছু জমিজমা। এলাকায় একজন ভালো ছেলে বলে পরিচিত ছিল সৌরভ। ধুবুলিয়া বটতলা এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলি থেকে খুনীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তবে, যে পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি নেই, সেই পরিবারের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন চেয়ে ছেলেকে কেন অপহরণ করল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তাহলে কি এই খুনের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? ধুবুলিয়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

