স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ২৪ জুন:
সরকারের বরাদ্দ ঘরের জন্য কাটমানি বাবদ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়া পাড়া এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবককে বর্তমানে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নাম হরিদাস রাজবংশী। ফুলিয়াপাড়া এলাকাতেই তাঁর বাড়ি। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাতটা নাগাদ আমি বাড়িতেই ছিলাম। সেই সময় সদানন্দ নামে এক যুবক আমাকে বাড়ি থেকে ডাকে। এরপর আম বাগানে নিয়ে গিয়ে আমাকে বলে, তোর জন্য সরকারি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। তোকে কুড়ি হাজার টাকা দিতে হবে। আমি দিতে রাজি না হওয়ায় ওরা আমাকে মারধর করে। রিভলবার দেখিয়ে আমাকে খুনের হুমকি দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় আমি ওইখানেই পড়ে যাই। ঘরের জন্য আমি কাটমানি দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে এইভাবে মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে আমি রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।’
হরিদাস রাজবংশীর মা শান্তিপুর থানায় ৫ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হরিদাসের পিতা নিতাই রাজবংশী বলেন, “সরকারি ঘর পেতেও টাকা দিতে হবে! তাও আবার মারধর করে? দোষীর শাস্তি চাই।”
মা জয়ধ্বনি রাজবংশী বলেন, আমরাও দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করি, তবুও ওরা কিভাবে মারলো আমার ছেলেকে এটাই বুঝে উঠতে পারছি না! বৌদি সুন্দরী রাজবংশী বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যর ইন্ধনেই ওরা এই জুলুম করেছে।
যদিও এ বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্য স্বপ্না বসাকের স্বামী দিলীপ বসাক দাবি করেন, ওরাও তৃণমূল করে, অত্যন্ত সুসম্পর্ক আমাদের সাথে, ওদের ঘরের লিস্ট আমরাই করি। তৃণমূলকে বদনাম করতে, বিজেপি সুপরিকল্পিতভাবে ওই যুবকদের ভুল পথে পরিচালনা করেছে বলেই আমার মনে হয়। আমরা ঘরোয়াভাবে ওদের সঙ্গে কথা বলছি।

