কাঁকসার অজয় নদে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু যুবকের, মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালি তোলার দিকে অভিযোগ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জুলাই: স্নান করতে নেমে অজয় নদে তলিয়ে মৃত্যু হল এক কিশোরের। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার সাতকাহানিয়া নারকেলডাঙ্গা ঘাটে। বৃহস্পতিবার তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় আবারও মেশিন দ্বারা বালি উত্তোলনকে দুষছে এলাকাবাসী।

পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, মৃত কিশোরের নাম সৈয়দ আব্দুল আজিম (১৮)। বীরভূমের ইলামবাজার থানার সুখবাজারের বাসিন্দা। 

ঘটনায় জানাগেছে, বুধবার বিকেলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কাঁকসার সাতকাহানিয়া অজয় নদে স্নান করতে গিয়েছিল সৈয়দ আব্দুল আজিম নামে ওই যুবক। এদিন বিকেলে স্নান করার সময় আচমকা তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসে। খবর দেয় ইলামবাজার ও কাঁকসা থানায়। খবর পেয়ে কাঁকসা ও ইলামবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নদীতে জলস্রোতে উদ্ধার কাজ শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। সেদিন সন্ধে পর্যন্ত দেহ উদ্ধার হয়নি।

পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে মৃতদেহ ভেসে ওঠে নদীতে। খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এদিকে নদীতে যত্রতত্র গভীর বালিখাদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ মে সাতকাহানিয়ার বাঁশতলা ঘাটে স্নান করতে নেমে শেখ সামসুল(১৫) অযোধ্যা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু হয়। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি অজয় নদীতে মকর স্নান করতে গিয়ে কাঁকসার সাতকাহানিয়ায় ঘাটে লাল রুইদাস(৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল লাউদোহার গৌরবাজার এলাকায় অজয় নদীতে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্য হয় কিশোর মন্ডল(১২) নামে এক যুবকের। ২০২১ সালের ১৮ দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহার পানশিউলি এলাকায় অজয় নদীর ঘাটে অনিমেষ মন্ডল(১৮) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে মেশিন বসিয়ে অবাধে চলে বালি উত্তোলন।

অজয় নদীর উপর শিবপুর, কোটালপুকুর জঙ্গলঘাট, দেউল, পেয়ারাবাগান, নারকেলবাগান, সাতকাহানিয়ার বাঁশতলা, শ্মশানঘাট, লাউদোহার গৌরবাজার গোগলাঘাট, পান্ডবেশ্বরেও একাধিক ঘাটে অবাধে চলে বালি উত্তোলন। নদীতে পাম্প বসিয়ে জলমিশ্রিত বালি তোলা হয়। জল মিশ্রিত বালিকে বিশেষ ছাকনির সাহায্যে আলাদা করা হয় নদীতে। তারপর ওই বালি জেসিবি দিয়ে লরিতে ভর্তি হয়ে পাচার হয় শহরে। আর পাম্প বসিয়ে বালি তোলার ফলে নদীতে অচিরে খাদ তৈরী হয়। যদিও পাম্প বসিয়ে কিম্বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালি উত্তোলনে গ্রিন ট্রাইবুনালের কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও রমরমিয়ে চলে পাম্প বসিয়ে বালি উত্তোলন। বেশ কিছু বৈধ ঘাটের পাশে অবাধে চলছে অবৈধঘাট। পর পর এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নদীতে অবৈধ বালিঘাটের নজরদারিতে। অভিযোগ, অবৈধ বালি তোলার ফলে ভেঙ্গে পড়ছে নদীর পাড়। বদলে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদীতে গভীর খাদ তৈরী হয়েছে। নদী জলপূর্ণ হওয়ায় ওই খাদ টের করতে পারে না অনেকে। যার ফলে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

বাসিন্দাদের দাবি, “প্রশাসনের কাছে আবেদন, নদীতে এধরনের মেশিন দিয়ে বালি তোলা বন্ধ হোক। কড়া নজরদারির আবেদন রাখছি। পাশাপাশি নদীতে হড়পা বান কিম্বা আচমকা নদীতে জলস্রোত আসার খবর থাকলে এলাকায় সতর্ক করে দেওয়ারও আবেদন রাখছি।” কাঁকসা থানার পুলিশ জানিয়েছে, “ঘটনার তদন্ত চলছে।” 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *