প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৩ জুলাই: ২১ জুলাই রাতে বিরাটির বণিক মোড়ে তৃণমূল কর্মী শুভ্রজিৎ দত্তকে গুলি করে খুনের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করল নিমতা থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে দিবাকর নামে এক ব্যক্তিকে নিমতা এলাকা থেকে আটক করে।
সূত্রের খবর, দিবাকর বাবুলাল ঘনিষ্ঠ। তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় সেই ভাবে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী না মেলায় পুলিশ ওই এলাকার যে সমস্ত দোকানে সিসিটিভি ছিল সেগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করে। পরবর্তীতে বণিক মোড়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দিবাকরকে চিহ্নিত করে পুলিশ। এরপর রাতে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, সে ওই রাতে বণিক মোড়ে কি করছিল? নাইট কারফিউ থাকা সত্ত্বেও ওখানে কেন ঘুরছিল এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে একাধিক অসঙ্গতি ছিল দিবাকরের উত্তরে।
একুশে জুলাই রাতে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বিরাটির তৃণমূল কর্মী শুভ্রজিত দত্তের। এই খুনের ঘটনায় মৃতের পরিবারের সদস্যরা বাবুলাল নামে জনৈক এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, এই বাবুলাল অনেক দিন ধরে দুষ্কৃতী কাজ কর্মের সাথে যুক্ত ছিল এবং ভোটের ঠিক আগে এলাকায় বিজেপি নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সূত্রের খবর, এই বাবুলালের সাথে ইমারাতি ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন মৃত শুভ্রজিত। আর সেই ব্যবসায়িক সূত্রে শুভ্রজিতের থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও ধার নিয়েছিল বাবুলাল, কিন্তু তা ফেরত না দেওয়ায় দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেস জেতার পর এই বাবুলাল এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তবে সম্প্রতি বাবুলাল এলাকায় আবার ফিরে আসলে বুধবার তাকে মারধর করে কিছু এলাকার বাসিন্দারা। তার মাথা ফেটে যায় এবং সে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর তারপর সেই রাতেই খুন হন শুভ্রজিত। এই খুনের মোটিভ হিসাবে বাবুলাল তত্ত্বকেই খাঁড়া করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর সেই সূত্র ধরেই বাবুলাল ঘনিষ্ঠ দিবাকরকে জেরা করে পুলিশ। সেই সঙ্গে সিসি টিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে দিবাকরের উপস্থিতি থাকার কারণে পুলিশ তাকে জেরা শুরু করে। আর জেরায় তার কথায় সঙ্গতি পেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, কোনও শার্প শুটার এই খুন করে থাকতে পারে। কারণ এক মিনিটে পরপর পাঁচটা গুলি করা হয় তৃণমূল কর্মীকে। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় বলেও তদন্তকারীদের মত। সেক্ষেত্রে কেবল একটা গুলিই লক্ষ্যভেদ হয় তাহলে ৫টি গুলি কেন করা হল। সে নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা। এই সমস্ত ঘটনার কারণ জানতে বৃহস্পতিবার থেকেই জোর কদমে তদন্ত শুরু করে তদন্তকারীরা। তারা এদিন ৩ জনকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করে তার মধ্যে বাবুলাল ঘনিষ্ঠ দিবাকরকে গ্রেফতার করে ও শুক্রবার তার পুলিশি হেফাজত চেয়ে তাকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয়।
তবে বুধবার রাতের ঘটনার রেশ সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিরাটির বণিক মোড়। এখনও আতঙ্কিত ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

