ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের, সাঁইথিয়ার বহরাপুর গ্রামে বোমায় পা উড়ল তৃণমূল সমর্থকের, জখম এক কিশোর

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৪ নভেম্বর: ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বোমায় পা উড়ল তৃণমূল সমর্থকের। জখম এক নাবালকও। দুজনকেই গুরুতর জখম অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এখনও পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে। বেশ কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দিন কয়েক আগেই সিউড়ির বাঁশঝোর গ্রামে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সিউড়িতে থাকাকালীন বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিশকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু তারপরও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমেনি। বন্ধ হয়নি বোমাবাজির ঘটনা। এবার সাঁইথিয়া থানা এলাকার বহরাপুর গ্রাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবকের বোমায় পা উড়ে গিয়েছে। মুজাফফর হোসেন নামে এক নাবালক বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বহরাপুর গ্রামে। তৃণমূলের সাঁইথিয়া ব্লক সভাপতি সাবের আলি খানের সঙ্গে বনগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তুষার মণ্ডলের বিবাদ দীর্ঘদিনের। সেই বিবাদের জেরে সাবেরের লোকজন ফাইজুল হোসেন নামে এক তৃণমূল সমর্থককে বাতাসপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে ফেরার সময় মারধর করছিল বলে অভিযোগ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইপো সাদ্দাম হোসেনে এবং নাবালক ছেলে মোজাফফর হোসেন তাদের হাতে আক্রান্ত হন। বোমার আঘাতে পা উড়ে যায় সাদ্দামের। ছেলেরও গুরুতর চোট লাগে। অভিযোগ, সাবের আলির ভাই নাসের আলির নেতৃত্বে বোমা ছোড়া হয়। আক্রান্তদের প্রথমে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং সেখান থেকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে দুইজনকেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে ফাইজুল হোসেনকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের। যদিও সাবের আলি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ মহম্মদ আলী বলেন, “পূর্ব বিবাদের জেরে আমার ভাইকে কিছু দুষ্কৃতী মারধর করছিল। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলের পা উড়ে গিয়েছে। নাবালক ভাইপো গুরুতর জখম। ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না”।

খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে বিশাল পুলিশবাহিনী গ্রামে যায়। গ্রামে মাইকিং করে মানুষজনকে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়।

বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, “ওই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকা জুড়ে বাকিদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। কয়েকটি দেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে হয়েছে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *