সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৬ ডিসেম্বর: অপারেশনের আগে রোগীকে রক্ত দিলেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসক। রক্ত দান করে এইভাবেই মুমূর্ষ রোগীর পাশে দাঁড়ালেন পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের ওই স্নাতকোত্তর শিক্ষানবিশ চিকিৎসক সৃজন রায়।

মানবাজার ১ ব্লকের মাঝিহিড়া গ্রামের রানি মাহালি পেটে যন্ত্রণা নিয়ে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ভর্তি হন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন ওই মহিলার অগ্ন্যাশয়ের কাছে টিউমার রয়েছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত। দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন শল্য চিকিৎসক ডা: পবন মণ্ডল ও চিকিৎসক মন্ডলী। দেখা যায় ওই রোগীর রক্তের প্রয়োজন। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রাথমিকভাবে বি পজেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন। রোগীর পরিবার পরিজনরা হন্যে হয়েও রক্ত জোগাড় করতে পারেননি। কোনও ক্রমে এক বোতল জোগাড় করেন তাঁরা। এদিকে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির কারণে অস্ত্রোপচারে দেরি করা যাবে না। পরিস্থিতির কথা ভেবে মেডিকেল কলেজের স্নাতকোত্তর (ডি এন বি) শিক্ষানবিশ কুচবিহারের বাসিন্দা সৃজন। এমবিবিএস করার পর দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে সার্জারিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করছেন। সবে সাত দিন এসেছেন। এর মধ্যেই রোগীর জন্য এইভাবে এগিয়ে আসাকে প্রশংসার দাবিদার বলে জানান পুরুলিয়া জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সৌমেন বেলথরিয়া। ওই চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রোগীর পরিবার।

চিকিৎসক সৃজন জানান, “এর আগে আমি ১৫ বার রক্ত দান করেছি। তবে, আমার রক্ত এই মুমূর্ষ রোগীকে সুস্থ করে তুললে আরও বেশি স্বার্থকতা থাকবে।”
বুধবার সকাল থেকে টানা ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অস্ত্রোপচার চলবে। ৫ জন চিকিৎসক, তিন জন এনেস্থেসিওলজিস্ট এবং নার্সদেরকে নিয়ে গড়া হয়েছে একটি দল। সেই চিকিৎসক দলের অন্যতম অভিজ্ঞ সদস্য শল্য চিকিৎসক ডা: পবন মণ্ডল বলেন, “ডা: সৃজনের জন্যই আমরা আপাতত চার বোতল রক্ত হাতে নিয়ে অস্ত্রোপচার করতে যাচ্ছি। সৃজনের জন্য চিকিৎসককুল গর্ব বোধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। রোগীর জটিল অপারেশনে তিনিও অংশ নিচ্ছেন।”

