মেদিনীপুর স্টেশনে সন্তান প্রসব করলেন এক ট্রেন যাত্রী

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ১৩ নভেম্বর: গত চার মাসে এই নিয়ে তৃতীয় বার। ফের মেদিনীপুর স্টেশনে সন্তান প্রসব করলেন এক ট্রেন যাত্রী। রবিবার সকালে মেদিনীপুর স্টেশনের কাছাকাছি ট্রেন পৌঁছতেই প্রসব যন্ত্রণা প্রসূতির। স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াতেই মহিলাকে উদ্ধার করে রেলওয়ের ‘সেহেলি’দৌড়ালো হাসপাতালের পথে। সদ্যোজাত পুত্র সন্তানকে নিয়ে প্রসূতিকে ভর্তি করা হলো মেদনীপুর মেডিকেলের মাতৃমা-তে। অন্যান্য বারের মতো এবারও স্মার্ট টিম “সেহেলি” ধন্যবাদ কুড়ালেন।

বর্ধমান জেলার বারাডিহি এলাকার বাসিন্দা যুবক মজাবুল মন্ডল সোনার কারিগর। সোনার কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী অম্বিকা খাতুনকে নিয়ে গুজরাটে থাকতেন। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ও প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসছে বুঝতে পেরে গুজরাট থেকে বর্ধমানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ট্রেনে। কবিগুরু এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে গুজরাটের জেতালসার স্টেশন থেকে সাঁতরাগাছির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। রবিবার সকালে মেদিনীপুর স্টেশন সংলগ্ন কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় ওই মহিলার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক মনে হওয়ায় মেদিনীপুর স্টেশনে স্ত্রীকে নিয়ে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন মুজাবুল। স্টেশনে এক নম্বর প্লাটফর্মে নামতেই কর্মরত আরপিএফ কর্মীরা বুঝতে পেরে তৎপর হয়ে যান। দায়িত্বে থাকা আরপিএফ ও জি আর পি সেহেলি টিমের কর্মরত মহিলাদের নিয়ে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হচ্ছে দেখে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তোলা মাত্র গাড়িতেই ওই মহিলার পুত্র সন্তান হয়ে যায়। সকলেই তাদের নিয়ে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাতৃমা বিভাগে ভর্তি করে দেওয়া হয়।

হাসপাতালে উপস্থিত রেলওয়ের পক্ষ থেকে জিআরপি সিভিক অভিজিৎ রাউত বলেন, “স্টেশনে নামার পরে আমরা বিষয়টা বুঝতে পারি। দ্রুত তৎপর হয়ে সকলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শিশু ও তার মা দুজনেই ভালো রয়েছে।” রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসআই বি কে মিশ্র বলেন, “এমন বেশ কয়েকবারই হয়েছে। আমরা সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছি৷ টিম সেহেলিকে ধন্যবাদ৷ এই উদ্ধার ছাড়াও ওরা এমন ভাবে বহু মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে৷”

তিন মাস আগে মেদিনীপুর স্টেশনে এক ভবঘুরে মহিলা সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব করেছিলেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় সেহেলি টিমের মহিলা রেলকর্মীরা। এরপর একমাস আগেও একই ঘটনা ঘটে। মেদিনীপুর স্টেশনে পৌঁছানোর আগে ট্রেনের কামরাতেই সন্তান প্রসব হয়ে গিয়েছিল এক প্রসূতির। সেক্ষেত্রেও উদ্ধার করে অনুরূপভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *