প্রেমিকের টানে পালিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে আটক উত্তর দিনাজপুর জেলার এক কিশোরী

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১৮ ফেব্রুয়ারি: প্রেমিকের টানে বাড়ি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার লোধন গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিয়ানি গ্রামের এক কিশোরী। কীভাবে মেয়েকে বাড়িতে ফরিয়ে আনা হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারের লোকজন।

জানা গিয়েছে, ওই কিশোরীর নাম খুশনারা খাতুন। স্থানীয় লোধন হাইস্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্রী৷ গত বুধবার প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল সহপাঠীদের সঙ্গে। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় খোঁজখবর৷ এরপর কেরালায় তাদের এক আত্মীয় বাড়ি থেকে ওই কিশোরীর বাড়িতে ফোন করে তার বাবা মাকে জানানো হয় বাংলাদেশে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে খুশনারা৷ ঘটনা জানাজানি হতেই আলোড়ন ছড়ায় এলাকায়।

কিভাবে ওই কিশোরী কাঁটাতার টপকে বাংলাদেশে চলে গেল তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা৷ শুক্রবার ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তার বাবা মা কেউই বাড়িতে নেই। মেয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। খুশনারার জ্যেঠু মহম্মদ ইসলাম বলেন, “সকাল ৯ টায় স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় ভাইঝি৷ এরপর আর বাড়ি ফেরেনি৷ এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি৷ কেরালার আত্মীয় বাড়ি থেকে ঘটনা জানতে পারি। বাংলাদেশে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে৷ বাংলাদেশের এক যুবকের সঙ্গে মোবাইলে কথা হত ভাইঝির৷ কিন্তু তাদের মধ্যে কি সম্পর্ক ছিল তা জানা নেই৷ এখন ভাইঝি নিজে বাংলাদেশে পালিয়ে গেল নাকি তাকে ওই বাংলাদেশের যুবক ফুঁসলিয়ে সেদেশে নিয়ে গেল তা নিয়ে অন্ধকারে পরিবারের সদস্যরা৷

গ্রামবাসীরা বলেন,”বাংলাদেশের এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল৷ তার টানেই সে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে৷ এখন ওই কিশোরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা৷ লোধন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মহম্মদ রেজ্জাক আলম বলেন, “ওই কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা মহম্মদ ইসরাইল হোসেনকে থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করার পরামর্শ দিই। পরে জানতে পারি মেয়েটিকে বাংলাদেশ পুলিশ আটক করেছেম খুবই দুঃশ্চিতার ব্যাপার৷ অবিলম্বে তাকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুক বাংলাদেশ সরকার।

সূত্রের খবর, ওই যুবকের বাড়ি বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া উপজেলার কৃষ্ণকান্তজোত গ্রামে। যুবকের নাম হাসিনূর রহমান। ওই যুবক কেরালার একটি কারখানায় কাজ করত৷ ওই কিশোরী কেরালায় আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়৷ সেই থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *