Shantipur বেতন নিয়মিত তুললেও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত এক শিক্ষক, বাধ্য হয়ে দুটি শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে একসঙ্গে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৯ জুলাই: দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে আসেন না, কিন্তু নিয়মিত বেতন তুলছেন। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। তাই অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আজ প্রধান শিক্ষক এবং শান্তিপুর সার্কেলের ইন্সপেক্টরের কাছে অভিযোগ জমা করেন। এই ঘটনা নদিয়ার শান্তিপুর শহরের তিলিপাড়ার কুঞ্জবিহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

অভিভাবক প্রসেনজিৎ হালদার বলেন, জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকায় সরকারের দেওয়া মাইনে তোলেন তিনি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসছেন না। আর এক ছাত্রের মা মন্টি রানী বিশ্বাস বলেন, এই স্কুলে এক শো’র বেশি ছাত্রছাত্রী থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিনজন শিক্ষক আছে। তারমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একজন আসছেন না। বাকি দুজনকে সব ক্লাস সামলাতে হয়। বেসামাল পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস একসঙ্গে করানো হয়।

অপর এক অভিভাবক সমরেশ সর্দার বলেন, কি কারনে এই শিক্ষকের প্রতি প্রধান শিক্ষক আইনানুগ ব্যবস্থা নেন না সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। অপর আর এক অভিভাবক ষষ্ঠী দেবনাথ বলেন, বর্তমান প্রধান শিক্ষককে আগে লিখিত এবং মৌখিকভাবে বলা সত্ত্বেও সদুত্তর না পেয়ে আজ আবার শরণাপন্ন হয়েছেন বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে।

আর এক অভিভাব সঞ্জীব হালদার বলেন, দীর্ঘদিন করোনা পরিস্থিতির কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে রয়েছে। তার মধ্যে এভাবেই এক শিক্ষক আসছেন না।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে, বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করার মতন সামর্থ্য তাদের নেই। পাশের পাড়ার বিদ্যালয়ে একসাথে এত পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থাও নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেঘনাদ পাল বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন, তখন বিদ্যালয়ে ছুটি ছিল। মিড ডে মিল ও অন্যান্য কাজে দুই একবার সঞ্জয় সরকার নামে ওই শিক্ষকের দেখা পেয়েছেন। এবার ২৭ এ জুন খোলার পর মাত্র পাঁচ বার এসেছেন। মাঝেমধ্যেই কি কারণে তিনি ডুব দেন তাও জানান না, বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জানিয়ে রাখা আছে বিষয়টি।

বিদ্যালয় পরিদর্শক বিপ্লব বিশ্বাস জানান, এবারে অভিযোগের আগেও একবার অভিযোগ করেছিলেন অভিভাবকরা, সেই মর্মে ওই শিক্ষককে কারণ জানাতে বলা হয়েছিল যা তিনি জানাননি। এবারেও জানতে চাওয়া হবে। সদুত্তর না পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *