প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করা নিয়ে তথাগত রায়ের অভিযোগে আলোড়ন

আমাদের ভারত, ১৪ জুলাই: ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীরকে নিয়ে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের দাবি হইচই ফেলে দিয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে গোপনতা ফাঁস করার অভিযোগ আনলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। এ ব্যাপারে তিনি সামাজিক মাধ্যমে নেট নাগরিকদের সমর্থনও পেয়েছেন। ফেসবুকে পোস্টের প্রথম ১৪ মিনিটে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ১৫১, ২০ ও ১২।

তথাগতবাবু আজ সকালে প্রথমে টুইটারে প্রসঙ্গটি আনেন। দুপুরের পর ফেসবুক পোস্ট করেন। লেখেন, “পৃথিবীর সব দেশকেই অন্য দেশে গুপ্তচর মোতায়েন করতে হয়। একে গুপ্তচর না বলে ইনটেলিজেন্স, কাউন্টার ইনটেলিজেন্স ইত্যাদি ডাকা হয়। দেশে সরকার বদলালেও গুপ্তচররা গোপনতার মধ্যেই কাজ করে। কিন্তু ভারতের উচ্চতম পদে আসীন এরকম তিনজন তাদের গোপনতা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। এঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই, প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল এবং উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী। এই অপরাধের নাম হাই ট্রিজন এবং এর শাস্তি পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই মৃত্যুদণ্ড। অথচ প্রথম দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে, তৃতীয়জন বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন!

প্রতিক্রিয়ায় পার্থ সেন লিখেছেন, “সংখ্যালঘু কোটায় সাত খুন মাফ। এটাই দেশের অলিখিত সত্য। উনি আবার উপরাষ্ট্রপতি হয়ে ছিলেন দেশের বামেদের মদতে, তাই এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। কারণ এই দেশের বামপন্থীরা দেশকে কোন চোখে দেখেন, তারা কতটা দেশের ‘হিতাকাঙ্খী’ সেটা আমরা দেশের সমস্ত জনসাধারণ জানি।”

সঞ্জীব ভট্টাচার্য লিখেছেন, “প্রথম দুজন নিয়ে আলোচনা করাটা বৃথা, কিন্তু তৃতীয় জন যদি এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ান তাহলে তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের উপর বর্তায়।”

নীল দাশগুপ্ত লিখেছেন, “ভারতবর্ষের সংবিধানে কি সেরকম কোনও শাস্তির বিধান আছে? যদি থেকে থাকে তাহলে হামিদ আনসারির বিরুদ্ধে কেস করা হোক।“

লিটন দাস লিখেছেন, “এরপরও নাকভিকে উপরাষ্ট্রপতি করার তোড়জোর বোকামি বা মূর্খতা নয় কি?“ সৌমেন মন্ডল লিখেছেন, “কেন্দ্র সরকার কি তামাক খাচ্ছে? কেন এখন অবধি হাত গুটিয়ে বসে?”

শাশ্বত মুখার্জি লিখেছেন, “এই হামিদ আনসারিদের রাখলেই তো এদের জুজু দেখিয়ে ভোট চাওয়া যাবে। এদের শাস্তি দিলে কাদের জুজু দেখাবে?“ সঞ্জীব নন্দী লিখেছেন, “ইরানের রাষ্ট্র দূত থেকে উপরাষ্ট্রপতি। ইরানে ভারতীয় গুপ্তচরদের উনি বিপদে ফেলতেন। এই হামিদ আনসারি আই এস আই এর গুপ্তচর। বলেছেন, পাকিস্তানের সাংবাদিক নুসরত মির্জা। পাকিরা ভারতের তিনটি শহরে যেতে পারে। মির্জা যেতো সাতটি শহরে। হামিদের সাথে একবার দুবার নয় পাঁচ বার দেখা করেন। গোপন তথ্য নুসরতের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠাতেন। নুসরত আইএসআই-কে দিত। খোদ নুসরত এ কথা বলেছে। এখন ভাবুন আপনার নিরাপত্তা কাদের হাতে ছিল। তার অনেক সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ছিল। তদন্ত হওয়া উচিত। কয়লা শত বার ধৌত করলেও ময়লা যাবে না। আরবরা কি করে বদলাবে।“

পবিত্র পাত্র লিখেছেন, “সরষের মধ্যেই ভুত! পাকিস্তানের স্লিপার সেলের সদস্য ছিলেন হামিদ আনসারি! একজন সিনিয়র পাকিস্তানি সাংবাদিক সেই রহস্য খুললেন, নাম নুসরাত মির্জা ; যিনি বহুবার ভারত পরিদর্শন করেন তৎকালীন কংগ্রেস দল ও দেশের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির আমন্ত্রণে। নুসরাত মির্জা তাঁর ভারত ভ্রমণের সময় সমস্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানের আইএসআইকে দিতেন এবং প্রতিটি ট্রিপেই ভারত থেকে অনেক তথ্য স্থানান্তরিত হ’ত আইএসআই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কাসুরির কাছে। হামিদ আনসারি ও কংগ্রেসের সাহায্যে এদেশের নুসরত মির্জা ৭টি শহরে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এই হামিদ আনসারি যাঁকে কংগ্রেস ২০০৭ সালে ভাইস প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসিয়েছিলো, ১০ বছর ওই চেয়ারে বসে থাকার পর মেয়াদ শেষ হতে না হতেই হামিদ আনসারি বলেছিলেন ভারতে মুসলমানরা নাকি তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত।

ইরানের রাষ্ট্রদূত থাকাকালীনও হামিদ আনসারী আইবি বিভাগ এবং এর কর্মকর্তাদের জীবনও ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিলেন। নুসরাত মির্জার বক্তব্য থেকে পরিস্কার যে তিনি হামিদ আনসারির থেকেই সমস্ত লিঙ্ক ও গোপনীয় তথ্য পেতেন। ভাবা যায়? বুঝুন এবার।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *