আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৪ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছিল। ছলে বলে কৌশলে প্রস্তাবিত কয়লা খনির কাজের অগ্রগতি ঘটাতে মরিয়া ছিল প্রশাসন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও এলাকার আদিবাসীদের বাধায় প্রাথমিক কাজ হিসাবে নমুনা খনন করতে পারছিল না। অবশেষে বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে বৃহস্পতিবার সেই কূপ খননের (বোর হোল) কাজ শুরু করল পিডিসিএল। প্রতিবাদে ‘সরকার বেইমানি করল’ এই আওয়াজ তুলে গণ অনশনের ডাক দিয়েছে কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলনে শামিল এলাকার আদিবাসীরা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বারোমেসিয়ার মাঠে যে লাগাতার ধর্না চলছে, সেই ধর্না মঞ্চে অনশন শুরুও করে দিয়েছেন তাঁরা। গত বছর নভেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী দেউচা পাঁচামী কয়লা খনির জন্য পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই কয়লা খনি চাই না এই দাবি নিয়ে এলাকার আদিবাসীরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। বিনিময়ে এসেছে আক্রমন। কখনও পুলিশের তরফে তো কখনও তৃণমূলের তরফে। মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে আন্দোলনকারীরদের। তবুও নাছোড় আন্দোলনের মেজাজ ফিকে হয়নি। গত এপ্রিল মাসের তেরো তারিখ আন্দোলনরত আদিবাসীদের এক প্রতিনিধি দলকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে ডেকে পাঠিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। সেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে পাঁচামী থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দল জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিলের লিখিত ঘোষণা, জোর করে জমি নেওয়ার রদ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি। মুখ্যমন্ত্রীও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই দাবি পূরণের। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উলটোটা। বরং সরকার যেনতেন প্রকারনে জমি জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে কয়লা খনি করার জন্য মরিয়া হয়েছে।

অপরদিকে আদিবাসীরাও তাদের আন্দোলনকে একই মেজাজে মাসের পর মাস ধরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিন পাঁচামীর কেন্দ্রপাহাড়ি গ্রামে কূপ খনন সেই আন্দোলনের ক্ষোভকে আরও চড়া করেছে। আন্দোলনে শামিল বীরভূম জমি জীবন জীবিকা ও প্রকৃতি বাঁচাও মহাসভার আহ্বায়ক গণেশ কিস্কু বলেছেনে, “মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেননি। সরকার আমাদের সাথে বেইমানি করেছে। আমাদের জমি জঙ্গল সব নিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদে আমরাও গণ অনশনের ডাক দিয়েছি।”
অপর আন্দোলনকারী অনন্ত হাঁসদা বলেছেন, “আমরা অনশনে বসে গিয়েছি বারোমেসিয়ার ডাঙ্গালে। শেষ দেখেই ছাড়ব।” এই ঘটনায় পাঁচামী নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে দেওয়ানগঞ্জ-হরিণশিঙা মৌজায় ২০ বর্গমিটার করে ১৪টি কূপ খনন করা হবে। অধিকাংশই হবে খাস জমিতে। মাটির নীচে কয়লা আছে কি না? কত নীচে আছে? তার গুণমান কি? এই সমস্ত কিছু জানার জন্যই এই নমুনা খনন।
এব্যাপারে বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়ের মন্তব্য, “এলাকার মানুষের সাথে আলোচনা করে প্রস্তাবিত কয়লা খনির কাজ এগোচ্ছে। এদিনের কূপ খননের কাজ মানুষ উৎসাহের সাথে গ্রহণ করেছে। কয়লা খনির জন্য যে পুনর্বাসন প্যাকেজ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘোষণা করেছেন তা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বশ্রেষ্ঠ। মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছে। কিছু মানুষ বিরোধীতা করছে।আলোচনার মাধ্যমে তারাও সহমত হবেন।”

