সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ ডিসেম্বর: যেন এক টুকরো রাজস্থান পুরুলিয়ায় উঠে এসেছে। মরু প্রদেশের গোলাপী শহর জয়পুর, জয়সলমির আর বিকানের। মরুদ্যানে মরু জাহাজ, সুসজ্জিত হাতি সবই রয়েছে। জয়পুরের বিখ্যাত গণেশ মন্দির, জলমহল, বাপুবাজার, জয়সলমিরের সিটি প্যালেস, জলের উপর গড় টিসাকেল মন্দির, পাকিস্তান সীমানা লাগোয়া বিজয় স্তম্ভ, তানেত মাতার মন্দির এবং বিকানেরের তোরণ, রামদেবড়া বাবার মন্দির সবই রয়েছে। পুরুলিয়া শহরের তেলকল পাড়া এলাকায় এইভাবেই রাজস্থানের তিনটি শহরকে নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন ভাস্কর রাহুল দাস। প্লাইউড বোর্ড, ফাইবার, থার্মোকল আর রং দিয়ে মরুভূমির রাজ্যকে এনে দিয়েছেন তিনি। নিখুঁত শিল্পশৈলীতে রাজস্থানীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। রাজস্থানের ঐতিহাসিক স্থানের গুরুত্ব শিল্পীর ভাবনায় আরও কাঙ্খিত করেছে দর্শকদের।

স্থানীয় সাগর রাজ ক্লাবের উদ্যোক্তা। তাঁরাই নিজেদের ইচ্ছে পূরণে ভাস্কর রাহুলকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় দুই মাসের দিনরাত সহকারীদের নিয়ে এক একর মাঠের মধ্যে মরু শহরগুলিকে স্থাপন করেছেন। উদ্যোক্তারা শহরগুলির ঐতিহ্যবাহী এবং জনপ্রিয় খাবার, পোষাকের পসরা সাজিয়ে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। শিল্পীর কথায়, উদ্যোক্তাদের ভাবনা বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্যে প্রচুর পরিশ্রম রয়েছে। ছবি দেখে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্বগুলি নিখুঁত করার চেষ্টা করেছি। প্রায় দশ দিন চলবে বিশেষ মেলা।

উদ্যোক্তাদের পক্ষে সুনিতা খৈতান বলেন, “পুরুলিয়ায় প্রচুর রাজস্থানী পরিবার রয়েছে। এছাড়া রাজস্থান ভ্রমণে প্রচুর মানুষ যান। করোনা আবহে ওই রাজ্যের সঙ্গে যাতায়াত প্রায় বন্ধ। মূলত সেই সব মানুষের জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে। রাজস্থানের কৃষ্টি সংস্কৃতি এখানে ফুটে উঠবে। আর ভাস্কর রাহুলের মনমুগ্ধকর শিল্প শৈলী রাজস্থানের ছোঁয়া পাবেন দর্শকরা।


