পাওনাদারদের হাতে মার খেয়ে অপমানে আত্মঘাতী এক ব্যক্তি, মৃতদেহ ফেলে রেখে রায়গঞ্জ- বালুঘাট রাজ্য সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১ মে: বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদারদের হাতে মারধরের পাশাপাশি মেয়েকে ধর্ষণ করার হুমকি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক ব্যাক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার ছোটপোরুয়া গ্রামে। মৃত ওই ব্যাক্তির নাম দীনেশ বর্মন (৫৫)। মৃতদেহ রাস্তায় রেখে পরিবারের লোকসহ এলাকার লোকেরা রায়গঞ্জ বালুরঘাট রাজ্য সড়ক অবরোধ করে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে অবরোধ করেন তারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। পরিবারের লোকেরা মৃতদেহটি ময়না তদন্তের পর রাজ্য সড়কে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার ছোটপোরুয়া গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ বর্মন এক বছর আগে স্থানীয় অজয় বর্মনের কাছ থেকে সুদে এক লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। নব্বই হাজার টাকা পরিশোধ করার পর বাকি থাকে দশ হাজার টাকা। সেই টাকার জন্য অজয় বর্মন দীনেশবাবুকে লাগাতার হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি টাকা পরিশোধ করতে দীনেশবাবু কিছুটা সময় চাইলেও তিনি তা মানতে নারাজ। টাকা পরিশোধ না করায় দীনেশবাবুকে মারধর করেন অজয় বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মন। পাশাপাশি তার মেয়ের উদ্দেশ্যে কটুক্তি করে বলে অভিযোগ। গতকাল বিকেলে দীনেশবাবু বাজারে গেলে সেখানে অজন বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মন তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। বাড়ি এসে দীনেশবাবুআ রাতে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পরে। দীনেশবাবুর স্ত্রী সকালে উঠে দেখেন দীনেশবাবু বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই আশপাশ থেকে ছুটে আসে বহু মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কর্ণজোড়া ফাঁড়ির পুলিশ। দীনেশবাবুর মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় দীনেশবাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানায় অজয় বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

দীনেশবাবুর ছেলে বিষ্ণু বর্মন জানিয়েছেন, যাদের জন্য বাবা এই কাজ করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বাবা অজয় বর্মনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে বাবাকে দিদির সম্বন্ধ্যে বাজে কথা বলার পাশাপাশি বাবাকে তারা মারধর করেছে এই বিষয়টি সহ্য করতে না পেয়ে বাবা এই পথ বেছে নিয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর অজয় বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মনকে গ্রেফতারের দাবিতে দীনেশবাবুর মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের লোকেরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়ক অবরোধ করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কর্ণজোড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ। পুলিশকে দেখে স্থানীয় উত্তেজিত বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের অভিযোগ পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ তাদের রিসিভ কপি দেয়নি। পুলিশ জেনেশুনে অজয় বর্মন ও লক্ষ্মণ
বর্মনকে গ্রেফতার করেনি। প্রায় ঘন্টাখানেক অবরোধের পর পুলিশ মৃতের দোষীদের পরিবারকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *