পুলিশের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম এক ব্যক্তি, শান্তিপুর- ভালুকা রোডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩ এপ্রিল: পুলিশের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম এক রোজা রাখা এক ব্যক্তি। ইফতার না করেই টায়ার জ্বালিয়ে এলাকাবাসীরা দীর্ঘ দুই ঘন্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করে। ওসির উপস্থিতিতে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আহত ২৫ বছরের যুবকের নাম কুলে শেখ। ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার বাগআঁচড়া এলাকায়। আজ সকালে বাগআঁচড়া দিয়ে মোটর বাইকে করে যাওয়ার সময় হঠাৎ উল্টো দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি পুলিশের গাড়ির ধাক্কা মারে ঐ বাইকটিকে। তারপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে ওই যুবককে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে পরে তাকে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় বলে জানা গেছে। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ, আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা না করে সুযোগ বুঝে চম্পট দেন ঐ পুলিশের গাড়িটি।

এলাকাবাসীদের দাবি, যে পুলিশের গাড়ির সাথে যুবকের বাইকের ধাক্কা লেগেছে সেই গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল। আর তারপরই ঐ এলাকায় বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। যদিও পুলিশ সুত্রে খবর, ঐ গাড়িটি কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ লাইনের। গাড়িটি একটি নাবালিকাকে নিয়ে নবদ্বীপ আদালত থেকে হোমে দিতে যাচ্ছিল। গাড়িটিতে ছিলেন একজন সাব ইন্সপেক্টর সহ বেশ কয়েকজন কনস্টেবল। বিকাল চারটে থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত চলে শান্তিপুর- ভালুকা রোডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। এরপর শান্তিপুর থানার ওসি লালটু ঘোষ এবং শান্তিপুর থানার বেশ কয়েকজন আধিকারিক সহ বিরাট পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা অভিযোগ জানান ওসির কাছে।

তারা বলেন, আহত ওই ব্যক্তি রোজার উপবাস রেখেছিলেন। বিক্ষোভ চলায় কেউই আজ বিকালে ইফতার করতে পারেননি। ঘটনা ঘটার পাঁচ ঘন্টার মধ্যেও কৃষ্ণনগরে অসুস্থ রোগীর কাছে হোক বা শান্তিপুরের তার পরিবারে কাছে, কেউ সমবেদনা জানাতে আসেনি। মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের গাড়ির চালক থাকবে কেন? বাগআঁচড়া এলাকার এক সিভিক ভলান্টিয়ার ধাক্কা দেওয়া ঐ পুলিশ গাড়িটিকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করে। এর আগেও এলাকায় সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালায় সে।
এ ধরনের নানা প্রশ্নের উত্তরে ওসি লালটু ঘোষ তাদের লিখিত ভাবে জানাতে বলেন। আহত ব্যক্তির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যায়ভারের দায়িত্ব নেন। ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এরপর অবরোধ উঠে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *