সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৬ ডিসেম্বর: হৃদ রোগে আক্রান্ত এক রোগীকে হাসপাতালের বেডে হাত পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল সুপারের অনুরাগী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বাইরে থেকে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের ইসিজি করান অভিযুক্ত উত্তম বণিক। ইসিজি করতে বাধা দেওয়ায় রোগীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ। সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম উত্তম বণিক। হাসপাতাল সুপারের অনুমতি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের ইসিজি পরীক্ষা করেন।
রোগীর পরিবার সূত্রের খবর, শনিবার রাতে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয় কিশোর হালদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি বনগাঁর জয়পুর এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। তবে মাঝে মধ্যেই তিনি ভুল বকছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁর ছোট ছেলে পাশেই ছিলেন। পরিবারের লোকজন রাতে বাড়ি চলে যাওয়ার পর, রোগীর চিৎকার ও ভুল বকা বেড়ে যায়। সেই সময় অভিযুক্ত উত্তম বণিক ওই রোগীকে ইসিজি পরীক্ষা করতে যায়। রোগীকে থামাতে গিয়ে তার হাত পা বেঁধে মারধর করে বলে অভিযোগ। মারধরে রোগীর মুখ চোখ ফুলে যায়। ঠোটের নিচে রক্ত জমে যায়।

কিশোর হালদারের ছেলে অভিজিৎ হালদার বলেন, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে যাই, তখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। মাঝে মধ্যে ভুল বকছিলেন। পাশাপাশি কিশোরবাবুর ছেলেরা রাতে জানতে পারে চিকিৎসক রাতে ইসিজি করাবেন। মঙ্গলবার সকালে যখন কিশোরবাবুর ছেলেরা বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন, সেই সময় তাদের চোখে পড়ে বাবা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। বাবার চোখে মুখে রক্ত, মারের আঘাত। ছেলে অভিজিৎ হালদার আশপাশের বেডের রোগীদের কাছে জানতে পারেন ইসিজি করার সময় তার বাবাকে মারধর করা হয়েছে। এরপরই তারা প্রথমে হাসপাতাল সুপারের কাছে অভিযোগ জানায়, পরে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বনগাঁ হাসপাতালে তদন্তের করে অভিযুক্ত উত্তম বণিককে গ্রেফতার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত উত্তম বণিক হাসপাতালের কোনো কর্মী না। তিনি হাসপাতাল সুপারের মদতেই রাতবিরেতে যে কোন ওয়াডে ঢুকে ইসিজি করেন। এই ঘটনার পর বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রোগীরা। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

