ভেষজ চিকিৎসার উপর আগ্রহ বাড়াতে নিউটাউনে গড়ে উঠেছে পোষণ পার্ক

অশোক সেনগুপ্ত, সুপ্রকাশ চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২৭ মার্চ: ভেষজ চিকিৎসার উপর মানুষের আগ্রহ বাড়াতে কলকাতার রাজারহাট নিউটাউনে গড়ে উঠেছে পোষণ পার্ক নামে ভেষজ গার্ডেন ও পঞ্চবটি বন। অনেকের আশা, অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ – বৃদ্ধদের পুষ্টির যোগান ও হারিয়ে যাওয়া পশুদের ফিরিয়ে আনতেও সহায়ক হবে এই উদ্যোগ।

‘বিশ্ব বন সৃজন দিবস’-এর প্রাক্কালে, রবিবার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘নিউ টাউন কলকাতা কেয়ার ফাউন্ডেশন’ ও নিউ টাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটির (এনকেডিএ) উদ্যোগে ‘অ্যাডোপ্টেশান অফ গ্রীন ভার্জ’ প্রকল্পের অন্তর্গত দুটি গ্রীন ভার্জ বা আয়ুর্বেদিক গার্ডেনের উদ্বোধন করেন নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির চেয়ারম্যান এবং হিডকো-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেবাশীষ সেন। তিনি বলেন, নিউটাউনে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই উল্লেখযোগ্য। 

নিউ টাউন কলকাতা কেয়ার ফাউন্ডেশানের পক্ষে ডক্টর অচিন্ত্য মিত্র বলেন, অ্যাকশন এরিয়া ২ বি তে ১০ নম্বর গ্রীন ভার্জের পোশাকি নামকরণ করা হয়েছে ‘পোষণ পার্ক’। এখানে ২.৫৬ একর জায়গার উপর মোট ১৪৫০ টি ২৭ ধরনের ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। তার মধ্যে ৫০০ টি বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছ, ২০০ টি পিয়ারা গাছ, ১০০ টি লেবু গাছ, ১৫০ টি নারিকেল গাছ, ৫০ টি কাঁঠাল গাছ, ৫০ টি পেঁপে গাছ এবং আতা, তেঁতুল, লিচু, কামরাঙা, কলা, করমচা, বিলাতি আমড়া, কাজু, ডালিম, গাব, কুল, জাম, জামরুল, আঁশ ফল রয়েছে। অ্যাকশন এরিয়া ২ বি- র আরও একটি গ্রীন ভার্জ -৭ নম্বর এ পঞ্চবটী বন তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এন কে সি এফ এর উদ্যোগে। এখানে বিভিন্ন ভেষজ বৃক্ষ যেমন- হরিতকী, নিম, বেল, তেজপাতা, বসাক, নারিকেল, দারুচিনি, কাবাবছিনি, রিঠা, অর্জুন, ছাতিম, বহেড়া, হিং, কর্পূর, ইত্যাদি প্রায় ৫০টি প্রজাতির সমন্নয় এ আমাদের দেশীয় উদ্ভিদের পরিচিতি কারণ এদের উপকারিতা উল্লেখ করা হবে।

এনকেডিএ-এর প্রায় ১.৩৩ একর জমির উপর বট, অশ্বত্থ, অশোক, আমলকি ও বেল ইত্যাদি সহ মোট ১০০০ গাছের সমারোহে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। এই দুটি গ্রীন ভার্জ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহের শেষ নেই।

প্রসঙ্গত, মানব সভ্যতা সৃষ্টির সময় থেকেই গাছা পালা, ফুল ফল না গাছের শেকড় ব্যাবহার করেই নানা রোগের চিকিতসা হত। পরবর্তীকালে ক্রমশ জনপ্রিয়তা পায় আয়ুর্বেদ চিকিৎসা। বর্তমানে অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যাবস্থাও  অনেকটাই নির্ভর করে এই গাছ গাছালির উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *