বাবার অত্যাচারে রায়গঞ্জে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী নবম শ্রেণির ছাত্রী

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১১ আগস্ট: নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো রায়গঞ্জ ব্লকের পশ্চিম মহাদেবপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম রাখি শর্মা(১৩)। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মদ্যপ বাবার মারধরের হাত থেকে বাঁচতেই আত্মঘাতী হয়েছে ওই স্কুল ছাত্রী। মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সুত্রে জানা গেছে, রাখি শর্মা রায়গঞ্জের বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম মহাদেবপুর এলাকার বাসিন্দা। ওই নাবালিকা রায়গঞ্জ ব্লকের মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে শোবার ঘরে তাকে ঝুলে থাকতে দেখে পরিবারের লোকেরা। কোনও রকমে তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
মৃতার দাদু ধীরেন শর্মার অভিযোগ, মৃতার বাবা অর্থাৎ তার ছেলে অচিন্ত্য শর্মা প্রায় দিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে মেয়ে, বাবা, মা, স্ত্রীর কাছে টাকা চাইত। না দিলে তাদের বেধড়ক মারধর করত। মেয়ে রাখিকে তার বাবা মাঝেমধ্যেই লাঠি, জুতো দিয়ে বেধড়ক মারধর করত বলে অভিযোগ। আর কিছুদিন যাবৎ সেই অত্যাচার চরমে ওঠে। আর বাবার মারধরে রাখি যথেষ্ট আতঙ্কে ছিল।

মঙ্গলবার বিকেলের পর বাড়িতে এসেই মেয়ে রাখিকে তার বাবা বেধড়ক মারধর করে। এরপর থেকেই রাখি বাড়ি থেকে আচমকা উধাও হয়ে যায়। অনেক খোজাখুজির পর তার নিজের শোবার ঘরেই তাকে ফাঁসি দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকেরা। রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্ত অচিন্ত্যর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন মৃতার ঠাকুরদা ধীরেন শর্মা। তিনিও চাইছেন, ছেলের এই চরম অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে। নাতনির মৃত্যুর জন্য তাঁর ছেলেকেই দায়ী করেছেন। ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেলের মর্গে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *