Purulia, TMC, Congress, ভোটের মুখে পুরুলিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ প্রাক্তন পুরপ্রধান শামিম দাদ খান ও ছেলে সোহেল দাদ খান

আমাদের ভারত, পুরুলিয়া, ১ ফেব্রুয়ারি: ভোটের আগে পুরুলিয়া শহরের রাজনীতিতে বড়সড় চমক। কংগ্রেস ছেড়ে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান শামিম দাদ খান। তাঁর সঙ্গে দলে ফিরলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তাঁর ছেলে সোহেল দাদ খান-সহ অনুগামীরাও। শনিবার পুরুলিয়া শহরের দুলমি এলাকায় জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের অনুমোদনক্রমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি ও বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন এবং জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানস ভুঁইঞা বলেন, “ধর্মের নামে ভোট ভাগ করার রাজনীতি বিজেপি করতে চাইছে। তার বিরুদ্ধে এই যোগদান। ভারতবর্ষ মানে ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মিলনের মঞ্চ। সেই কারণেই শামিম দাদ খান ও তাঁর ছেলে কংগ্রেস ছেড়ে আবার তৃণমূলে ফিরলেন।”

তবে এই ‘ঘর ওয়াপসি’কে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর দলের প্রাক্তন কাউন্সিলদের একাংশ। যোগদানের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে এমএসএ ময়দানে একটি প্রতিবাদ সভা করেন তাঁরা। সেখান থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, এই যোগদানের বিরোধিতা করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁরা আলাদা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

উল্লেখ্য, শামিম দাদ খান পুরুলিয়া পুরসভার মোট ছ’বারের কাউন্সিলর। এই সময়কালে তিনি একবার পুরপ্রধান, দু’বার উপপুরপ্রধান এবং একবার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর ছেলে সোহেল দাদ খানও পুরুলিয়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর। ২০২২ সালের পুরভোটে তৃণমূলের টিকিট না পাওয়ায় তাঁরা কংগ্রেসে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়লাভ করতে পারেননি।

তৃণমূলে ফিরে শামিম দাদ খান বলেন, “আমি অভিমানে ঘর ছেড়েছিলাম। এখন আর কোনও অভিমান নেই। তাই আবার ঘরে ফিরেছি। তৃণমূল আমাকে পুরপ্রধান করেছিল। আমাদের সমাজের জন্য তৃণমূল যে কাজ করেছে, তা ভোলার নয়। পুরুলিয়া বিধানসভায় তৃণমূলকে জেতাতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।”

এদিকে এই যোগদান নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন পুরুলিয়া শহরের তৃণমূল নেতা ফইজাল কামাল শাহী। তিনি বলেন, “এই কয়েকদিন আগেও ওই বাবা-ছেলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা করেছেন। আর আজ তাদেরই দলে নেওয়া হলো। রাজ্য নেতৃত্ব কী ভাবছে জানি না। তবে আমরা এই যোগদানের বিরুদ্ধে এবং আলাদাভাবে ভাবনাচিন্তা করব।”

বিষয়টি নিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। কী হয়েছে, খোঁজ নিয়ে দেখব।”

অন্যদিকে, এই যোগদান প্রসঙ্গে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া জানতে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস ও প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *