দক্ষিণেশ্বরে গ্যারাজে আগুন, জীবন্ত পুড়ে মারা গেলেন এক ব্যক্তি

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৮ এপ্রিল: মঙ্গলবার রাতে আচমকা ভয়াবহ আগুন লেগে ভস্মিভূত হয়ে গেল দক্ষিণেশ্বর নিবেদিতা সেতুর নিচে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গ্যারাজ। আগুনে জীবন্ত পুড়ে মারাগেছেন এক কর্মী। নিহত ব্যক্তির বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায়।

এই বাসস্ট্যান্ডে ৪৩ নম্বর ৪৩/১ নম্বর বাস ডি এন ২, ডিএন ২/১ এছাড়াও এই জায়গা থেকে বিভিন্ন বাস ছাড়ে। এই বাস টার্মিনাসে দক্ষিণেশ্বরের পুরনো ব্রিজের দিকে পাঁচটি গাড়ি সারানোর গ্যারাজ রয়েছে এবং গাড়ি রং করার ও গাড়ির বডি তৈরি কাজ করার গ্যারাজ রয়েছে, সেখানেই ভয়াবহ আগুন লেগে যায় আচমকাই। সেই আগুনের এতটাই তীব্রতা ছিল একটি গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যায়, তার ফলে আরো বড় আগুন লেগে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গাড়ির বডি তৈরির ৫টিগ বডি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রথমে বরানগর দমকল কেন্দ্র থেকে একটি গাড়ি আসে, পরে কামারহাটি ফায়ার ব্রিগেড থেকে দুটি গাড়ি আসে। তিন ঘন্টার উপরে সময় লাগে আগুন আয়ত্তে আনতে।

বরাহনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে সি ই এস সি গাড়ি আসে আশেপাশের মানুষও দমকল কর্মীদের সাথে হাত লাগায়। আগুন নিভে যাওয়ার পর একজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল বলে বেরনোর সুযোগ না পেয়ে জীবন্ত পুড়ে মারা গেছে বলে অনুমান। নিহত ব্যক্তি গাড়ির বডি রং করতেন। দমকল সূত্রে জানা যায় পুড়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম তারক সাউ তাঁর বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তিনি সোম থেকে শনি এই গ্যারেজেই থাকতেন। এই মৃত ব্যক্তির সাথে আরো দুইজন রংয়ের কাজ করেন। তাঁরা বরানগরের বাসিন্দা। কাজ শেষে তাঁরা বাড়ি চলে যান। বরানগর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়া।

কামারহাটি ফায়ার ব্রিগেডের ওসি মনসারাম ধীবর জানান, তিনটে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি কাজ করে, একটি গাড়ি নিবেদিতা সেতুর উপর থেকে জল দেয় আর অন্যদুটি গাড়ি ব্রিজের নিচে থেকে জল দিয়ে আগুন নেভায়। ওসি কামারহাটি জানান, একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।মালিকদের সংগঠন বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক সোহেল খান জানান, পাঁচটি গাড়ির বডি তৈরির কাজ হচ্ছিল গ্যারেজ, সেই পাঁচটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একটি গ্যাস সিলিন্ডার সরানো গেছে এবং একটি প্রচন্ড শব্দে ফেটে যায় এবং একজন ভিতরে ঘুমাচ্ছিলেন। জীবন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যান, খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *