সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৫ নভেম্বর: ঝালদা পুরসভায় তলবি সভার আগে জমে উঠেছে আইনি লড়াই। কংগ্রেস আর তৃণমূলের লড়াই জারি রয়েছে। ২১ তারিখ তলবি সভার দিন স্থির করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তার মধ্যেই নিজেদের বোর্ড গড়তে তৎপর হয়েছে যুযুধান দুই পক্ষ। কাল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেওয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শীলা চ্যাটার্জির সদস্য পদ খারিজের জন্য মহকুমাশাসককে চিঠি দেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া এবং পুরসভার কাউন্সিলর বোর্ডের নেতা সুরেশ আগরওয়াল। ওই দিনই পত্রপাঠ শীলা চ্যাটার্জিকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করতে চিঠি দেন ঝালদার মহকুমাশাসক। ইতিমধ্যে এই নিয়ে ঝালদায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “তৃণমূল মরিয়া হয়ে উঠেছে। পুরসভার কাউন্সিলর বোর্ডের নেতা কখনই কোনও কাউন্সিলরের সদস্য পদ খারিজের আবেদন করতে পারেন না। ওটা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর গণের নেতা হিসেবে করতে পারেন। নূন্যতম আইন না জেনেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জয় করতে পারবে না। আমরা হাই কোর্ট থেকে রক্ষা কবচ আনবো। বোর্ড আমরাই গড়ব।” সুরেশ আগরওয়াল বলেন, “নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার প্রমাণ আমরাই দেব এবং বোর্ড নিজেদের হাতে থাকবে আমাদের।”
প্রসঙ্গত, ১৩ অক্টোবর ঝালদার তৃণমূল পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন কংগ্রেসের পাঁচ ও নির্দলের এক কাউন্সিলর অর্থাৎ মোট ছয় জন। এর ১৫ দিনের মধ্যে তলবি সভা ডাকেননি। ফলে উপ-পুরপ্রধান তাঁর সময়সীমার একেবারে শেষের দিকে ২১ নভেম্বর তলবি সভা ডাকেন। কিন্তু সেই সভা বৈধ নয় বলে দাবি করেন অনাস্থা আনা কাউন্সিলররা। পালটা তাঁরাও তলবি সভা ডাকেন। দু’পক্ষই তলবি সভা ডাকার ঘটনায় প্রশাসন চুপ থাকায় শাসক ও বিরোধীদের বিবাদ গড়ায় আদালতে। বিরোধী কাউন্সিলরদের জারি করা নোটিস খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঝালদা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুদীপ কর্মকার। বিরোধী কংগ্রেস কাউনসিলরদের ৪ নভেম্বরের জারি করা নোটিশ খারিজ করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তার পর ফের ৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতে যান কংগ্রেস কাউন্সিলররা। মঙ্গলবার তার শুনানি ছিল। সেখানে ২১ তারিখই তলবি সভার দিন স্থির রাখে হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার ফের হাই কোর্টের দিকে তাকিয়ে কংগ্রেস এবং তৃণমূল।

