পুরনো পেনশন স্কিম চালুর দাবিতে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনে ডিভিসির ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৭ মার্চ: প্রতিশ্রুতি মত পুরনো পেনশন স্কিম চালু না হওয়ায় ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মী মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুরানো পেনশন স্কিম লাগু করার দাবিতে ফের আন্দোলনে নামলো ডিভিসির ট্রেড ইউনিয়নগুলোর যৌথ মঞ্চ। সংগঠনগুলি যে দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে তার মধ্যে বি-৩ থেকে বি- ৪ এবং বি- ৫ থেকে এম-১ ক্যাটাগরিতে পদন্নতির একাংশ প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। কিন্তু দাবি গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এফসিএ সহ ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির আগে যারা ডিভিসিতে প্যানেলভুক্ত হয়ে পরে নিয়োগপত্র পেয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে তাদেরকে পুরানো পেনশন স্কিমের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, ডিভিসির মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পে যে ৫২০ জন জমিদাতাকে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ২৪০ জনকে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির পর নিয়োগ করা হয়। ফলে তারা চুক্তি অনুযায়ী কর্ম পিরিওড ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী পেনশন আওতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আন্দোলনকারী ভূমিহারা ডিভিসির কর্মী দেবাশিস মুখার্জি, সদানন্দ মাজি, প্রশান্ত মন্ডল, মৃত্যুঞ্জয় মাজিরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পেনশন স্কিম নিয়ে ২০২০ সালে একটি নতুন সার্কুলার জারি করে। সেখানে উল্লেখ করা হয় ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির আগে যদি কেউ ইন্টারভিউ দিয়ে সংস্থায় প্যানেলভুক্ত হয়ে থাকেন কিন্তু পরে নিয়োগ হয়েছেন, তারা পুরানো পেনশন স্কিমের আওতায় থাকবেন।

দেবাশিস মুখার্জি বলেন, ডিভিসির মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি দাতাদের মধ্যে ৫২০ জনকে স্থায়ী চাকরি দেবে বলে ১৯৯৪ সালে রাজ্য সরকারের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে সকলকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে নিয়োগ করার কথাও ছিল ওই চুক্তিপত্রে। কিন্তু ২৮০ জনকে ধাপে ধাপে ২০০৪ সালের আগে নিয়োগ করলেও তালিকাভুক্ত বাকি ২৪০ জনকে পরে নিয়োগ করা হয়। এখন একই সংস্থায় জমি দিয়ে কেউ পেনশন পাবেন আবার কেউ পেনশন পাবেন না এই নিয়ম চলতে পারেনা। তাই শ্রমিক সংগঠন গুলির যৌথ মঞ্চ তাদের সমস্ত নথি পত্র দিয়ে এই ২৪০ জনকে পুরানো পেনশন স্কিমের আওতায় আনার জন্য আন্দোলন নেমেছে ২০২০ সাল থেকেই।

আন্দোলনকারীরা জানান, ডিভিসির একটি শ্রমিক সংগঠন ছাড়া সিআইটিইউ, আইএনটিইউসি, বিএমএস, এসএ সহ সংস্থার ৮ টি সংগঠন যৌথ আন্দোলন করছেন এবং সেগুলি মার্চ মাসের আগেই বেরিয়ে যাওয়ার কথা। বুধবার সংস্থার ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন ঘোষণা হয়। আগামী ২৮ এপ্রিল গোপন ব্যালটে ভোট হবে। মঙ্গলবার নির্বাচন বিধি লাগুর আগে যৌথ মঞ্চের দাবি গুলির একাংশ বের হলেও পেনশন নিয়ে চুপ ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। আর তা জেনেই বুধবার ডিভিসির মেজিয়া প্রকল্পের বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান ভূমিহারা কর্মীরা। যৌথ মঞ্চের পক্ষে সিটু নেতা সমীর বাইন, ইনটাক নেতা অরিন্দম ব্যানার্জি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নেতা বিদ্যুৎ কর্মকার বলেন, এই নিয়ে আমরা দীর্ঘ আন্দোলন করেছি। গত ডিসেম্বর মাসে ডিভিসির সদর দফতর কলকাতার ডিভিসি টাওয়ার্সে আমরা আমরণ অনশনে বসেছিলাম। সেই সময় কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দাবিগুলির সমস্তই চলতি আর্থিক বছরেই ঘোষণা করা হবে। কিন্তু নির্বাচন বিধি লাগুর আগে মেজিয়ার ভূমিহারা কর্মীদের পুরানো পেনশন স্কিম চালুর নির্দেশিকা বের না হওয়ায় আমরা হতাশ।

এ বিষয়ে মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের এক আধিকারিক জানান, যেহেতু ডিভিসিতে নির্বাচন বিধি লাগু হয়ে গেছে সেহেতু এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *