বেতনের দাবিতে একোয়াটিকাতে অনশন! মালিককে আরও বড়লোক করেছি, কিন্তু আমাদের খাওয়া জুটছে না

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ৩ সেপ্টেম্বর: বেতনের দাবিতে এবার ভাঙড়ের একোয়াটিকাতে অনশনে বসলেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার একোয়াটিকা ওয়াটার পার্কের সামনে ত্রিশ চল্লিশ জন শ্রমিক পার্কের সামনে অনশন শুরু করেন। শ্রমিকদের দাবি, খুব শীঘ্র পার্ক খুলে জঙ্গল সাফাই, রঙ করা সহ অন্যান্য কাজে শ্রমিকদের নিয়োজিত করতে হবে। শ্রমিকরা গত চার মাস ধরে যে বেতন পাননি সেটাও দিয়ে দিতে হবে। না হলে তাদের অনশন চলবে।
১৯৯৯ সালে রাজারহাট উপনগরীর কাছে ভাঙড় ২ ব্লকের বামনঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোঁচপুকুর গ্রামে ১৭ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে একোয়াটিকা ওয়াটার পার্ক ও রিসর্ট।পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় এই বিনোদন পার্ক এখন বন্ধ করোনা অতিমারীর জেরে। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এখানেও অচলাবস্থা চলছে। যার জেরে পার্কের স্থায়ী ও অস্থায়ী বেশ কিছু কর্মীর কাজ গেছে। স্থানীয় বামনঘাটা, কোঁচপুকুর, হাটগাছা, বেওতা গ্রামের প্রায় সত্তর জন বাসিন্দা ওই পার্কের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি বিহার, ওড়িশা সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে জনা ১৫ জন কাজ করেন। যার মধ্যে ৫৭ জন স্থায়ী কর্মী, বাকিরা অস্থায়ী ভাবে কাজ করছিলেন। পার্ক বন্ধ হওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে ২৫ শতাংশ করে বেতন দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, মে, জুন, জুলাই ও আগষ্ট মাসে একটা টাকাও দেননি পার্কের মালিক। যার জেরে বহু শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা দু’বেলা দু মুঠো ভাত জোগাড় করতে পারছেন না।

এদিন অনশন প্রসঙ্গে বিপ্লব মণ্ডল, আজিজুল শেখ, প্রবির সরদাররা একযোগে বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে এই পার্কের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এটাকে দাঁড় করিয়েছি। মালিককে আরও বড়লোক করেছি। অথচ মালিক আমাদের কোনও দাবি মানছেন না। অনেক কর্মী ভিতরে মদ মাংস খাচ্ছে অথচ আমাদের ডালভাত জুটছে না।‘

এর আগে একাধিকবার এ ভাবেই পার্কের গেটে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন শ্রমিকরা। এক সপ্তাহ আগে পার্কের লোহার গেট ঝালাই করে বন্ধ করে দিয়েছিলেন অস্থায়ী শ্রমিকরা। যদিও লাগাতার আন্দোলনের পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় পার্ক কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্কের এক কর্তা বলেন, ‘আমরা কাউকে ছাঁটছি না। কিন্তু এখন কোনও কাজ নেই, পার্কের আয় নেই। তাও আমরা দশ জন শ্রমিককে কাজে নিতে রাজি হয়েছি। ওরা সত্তর জনের কাজ চাইছে একসাথে, সেটা এখন সম্ভব নয়।‘ একোয়াটিকা বিনোদন পার্কের মালিক রামচন্দ্র আগরওয়াল কলকাতার বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনা প্রসঙ্গে ভাঙড় ২ বিডিও কৌশিক কুমার মাইতি জানান, শ্রমিকরা একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। আমরা মালিক ও শ্রমিকদের এক সঙ্গে বসিয়ে একটি সমাধান করার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *