এক গৃহবধূকে পরপর দুবার ভ্যাকসিন দেওয়া হল, বড়জোড়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্ৰেৱ বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

সোমনাথ বৱাট, আমাদের ভাৱত-বাঁকুড়া, ১৮ জুলাই:
ভূয়ো ভ্যাকসিন নিয়ে যখন গোটা রাজ্য তোলপাড় ঠিক তখন একই দিনে এক গৃহবধূকে পৱপৱ দুবাৱ ভ্যাকসিন দেওয়া হল। এই ঘটনাকে কেন্দ্ৰ কৱে জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্ৰবাৱ বাঁকুড়ার বড়জোড়ায পখন্না স্বাস্থ্য কেন্দ্ৰে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির ও তদন্তেৱ দাবি উঠেছে।

জানাগেছে, বছর ২৮ – এর ওই গৃহবধূর নাম মন্দিরা পাল। বাড়ি বড়জোড়া থানারই রাজমাধবপুর গ্ৰামে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুবার প্রতিষেধক নিয়ে সারারাত ঘুমুতে পারেননি। বমি, মাথাব্যথা, হাত-পা ব্যথা, জ্বর এই উপসর্গ দেখা দেয়। শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ মন্দিরা দেবীকে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাঁকুড়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, পখন্না প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক গৃহবধূকে দুবার করোনা ভ্যাকসিনের প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যদি কারো গাফিলতি থেকে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই বধুর স্বামী প্রান্তিক চাষী গুণময় পাল বলেন, করোনা ইনজেকশন নেওয়ার জন্য আমার স্ত্রী সকাল থেকে হাসপাতালের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেলা ১২ টা ২৫ মি. নাগাদ তাকে টিকা দেন এক নার্স। তারপর তাকে একটি ঘরে বসিয়ে রাখা হয়। আমার মোবাইলে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার ম্যাসেজও এসে যায়। এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও স্ত্রী বাইরে আসছে না দেখে আমি ভিতরে গিয়ে শুনি মন্দিরাকে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি করছেন। আমিও হতভম্ব হয়ে যাই।

একে-ওকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি তাকে দুবার কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। শনিবার মন্দিরাদেবী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বলেন, আমাকে প্রথমবার টিকা দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়। আমি ভেবেছিলাম এরপর বোধ হয় কিছু খাবার ওষুধ দেওয়া হবে। কিন্তু ওই নার্স দিদি ফের ইনজেকশনের সিরিঞ্জ আমার হাতে ঢুকিয়ে দেন। আমি তখন নার্সকে বলি, সকলকে একবার করে ইনজেকশন দিলেও আমাকে কেন দুবার দেওয়া হচ্ছে? শুনেই সঙ্গে সঙ্গে আমাকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে আসেন ওই নার্স, তারপর এক ডাক্তারবাবু এসে প্রেসার মেপে যান। এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর আমাকে বাড়ি যাওয়াৱ পৱামৰ্শ দেন ডাক্তারবাবুরা। সারারাত জ্বর বমি ও গা ব্যথা হয়। ডাক্তারবাবুদের ফোন করলে উনারাই আমাকে হাসপাতালে এসে ভর্তি হতে বলেন।

শনিবার তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন বিধায়ক অলক মুখার্জি। তিনি বলেন, মন্দিরা পাল এখন ভালো আছেন। কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার পর গা বমি, মাথাব্যথা, হাত-পা ব্যথা, জ্বর এই উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কারো কারো ক্ষেত্রে। ডাক্তারবাবুরা মন্দিরা পালকে সর্বক্ষণ অবজারভেশনে রেখেছেন। এর পিছনে যেসব স্বাস্থ্যকর্মীদের গাফিলতি রয়েছে তা তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে।

এপ্রসঙ্গে বিরোধী বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত অগস্থি বলেন, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত দোষী স্বাস্থ্যকর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তার দাবি, সমস্ত কিছু আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার এসএন প্রসাদ বলেন, ওই মহিলাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে কোনো শারীরিক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বা উপসর্গ দেখা যায়নি। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *