মুসলিম যুবতীকে বিয়ে করার কারণে খুন হতে হল হিন্দু যুবককে

আমাদের ভারত, ৫ মে: মুসলিম যুবতীকে বিয়ে করার কারণে খুন হতে হলো এক হিন্দু যুবককে। অনুমান করা হচ্ছে ওই মুসলিম মহিলার বাড়ির লোকেরাই পিটিয়ে মেরেছে এই হিন্দু যুবকটিকে।

মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ওই পিটিয়ে মারার পৈশাচিক দৃশ্য। হায়দ্রাবাদের রাস্তায় লোহার রড নিয়ে নাক মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে হিন্দু যুবকটির। যদিও তার স্ত্রী আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পেরে ওঠেননি।

পুলিশ সূত্রে খবর নাগারাজু এবং সৈয়দ আসরিন সুলতানার মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল। মাত্র তিন মাস আগে পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বুধবার রাত পৌনে নটা নাগাদ বাইকে স্বামী-স্ত্রী রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। সেই সময় তাদের রাস্তা আটকায় আরো দু’জন। নাগারাজুকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে লোহার রড, ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন তারা। ঘটনা আশেপাশের অনেকে দেখলেও দুষ্কৃতীদের কেউ ঠেকায়নি প্রথমে। বরং স্মার্টফোনের ভিডিও করতে শুরু করেছিলেন অনেকে। দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। রাস্তার পাশে পড়ে থাকে নাগারাজুর রক্তাক্ত দেহ। সুলতানা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।

সব শেষ হবার পর এক দুষ্কৃতীকে ধরে জনতা। সে সুলতানার ভাই বলে চিহ্নিত হয়েছে। কাতর স্বরে সুলতানা জানিয়েছেন, “রাস্তার মাঝে ওরা আমার স্বামীকে মেরে ফেললো। ৫ জন আক্রমণ করেছিল। আমার ভাই এবং আরও কয়েকজন ছিল। আমি ভিক্ষা চাইলেও কেউ আমাদের সাহায্য করেনি। আমার চোখের সামনে ওরা ওকে মেরে ফেলল।”

বিয়ের পর নিজের নাম বদলে পল্লবী রেখেছিলেন সুলতানা। তার বাড়ির লোক ভিন্ন ধর্মের বিয়ের ঘোর বিরোধী ছিল। নাগারাজুকে একাধিকবার হুমকিও দিয়েছিল তারা। নাগারাজুর বোন বলেন, খুনের হুমকি নিয়ে তারা পুলিশে অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল তার ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *