তালিবানরা প্রাণে মারলে মারুক, মন্দির ছেড়ে কোথাও যেতে নারাজ কাবুলের হিন্দু পুরোহিত

আমাদের ভারত, ১৮ আগস্ট: মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়লে পড়ুক, তবু মন্দির ছেড়ে এক পাও নড়বেন না রাজেশ কুমার। হ্যাঁ তিনি সম্ভবত এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সর্বশেষ হিন্দু পুরোহিত। কাবুলের রতননাথ মন্দির তাঁর ধ্যান, জ্ঞান, কর্ম এবং প্রার্থনাস্থল। তালিবান জঙ্গিদের তান্ডবে রক্তাক্ত আফগানিস্তান ছেড়ে প্রাণভয়ে যখন সে দেশের বাসিন্দারা পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন এই হিন্দু পুরোহিত মন্দির আঁকড়ে থাকাই বেশি শ্রেয় মনে করছেন।

রাজেশের কথায়, “আমার পূর্বপুরুষ কয়েকশো বছর ধরে এই মন্দিরে পূজা র্অচনা করেছেন। তারপর আমি এই দায়িত্ব পালন করছি, আমি মন্দির ছেড়ে যাবো না। যদি ওরা আমাকে মেরে ফেলে তাহলে আমি তাকে আমার ঈশ্বর সেবা বলেই মনে করব।” সংবাদমাধ্যমের কাছে রাজেশ জানিয়েছেন, কিছু হিন্দু তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন অবিলম্বে কাবুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে। কোনও নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে। কোথাও থাকার বন্দোবস্ত তাকে ওঁরা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু রাজেশ কুমার তাদের জানিয়েছেন, “আমার কোনও অসুবিধা হবে না। আমি এই মন্দির ছেড়ে যেতে পারবো না। এই মন্দির আমার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি বিজড়িত। ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

রবিবার থেকেই কাবুলের গলি-ঘুপচিতে ঢুকে পড়েছে তালিবান জঙ্গিরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আফগান রাষ্ট্রপতি সহ রাজনৈতিকরা। আফগানিস্তান এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। কাবুলের রাস্তায় ও বিমানবন্দরের দেশ ছাড়ার জন্য ভিড় করেছেন কাতারে কাতারে মানুষ। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। বিমানের চাকায় ঝুলে যাওয়ার সময় মাঝ আকাশ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দুজন। সেই ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়াতেও দেখা গেছে অনেকে। কেউ কেউ পদপিষ্ট হয়ে মারাও গেছেন বলে খবর। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও নিজের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি আঁকড়ে মন্দিরে পড়ে থাকতে চান পুরোহিত রাজেশ কুমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *