বোলপুরের বেসরকারি ব্যাঙ্কে ভয়াবহ আগুন, এই শাখাতেই রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা এবং দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের অ্যাকাউন্ট

আশিস মণ্ডল, বোলপুর, ২৮ সেপ্টেম্বর: বেসরকারি ব্যাঙ্কের বোলপুর শাখায় ভয়াবহ আগুন। এখানেই রয়েছে গরুপাচার কাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল এবং দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। গরুপাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে ব্যাঙ্কের ঠিক এই শাখাতেই দু’বার সিবিআই-এর তরফে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে তার থেকেও এলাকাবাসীর মনে তৈরি হয়েছে অন্য প্রশ্ন। আদৌ এই আগুন লাগার বিষয়টি কি নিতান্তই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও অভিসন্ধি? যদিও সেসব নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

গরু পাচার কান্ডে সিবিআই তদন্ত, তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীনই আগুন লাগল বীরভূমের বোলপুরের প্রাণ কেন্দ্র ডাকবাংলো মাঠ লাগোয়া একটি বেসরকারি ব্যাংকের বীরভূমের বোলপুরের শাখায়৷ যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা৷ কারণ, ঘটনাচক্রে ওই শাখাতেই রয়েছে গরুপাচার কাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল এবং দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের ব্যাঙ্ক একাউন্ট। সিবিআই-এর তদন্তে জানা গিয়েছে, সুকন্যার নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সারতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের এই শাখাটিকেই ব্যবহার করা হয়েছিল৷ প্রশ্ন উঠছে, এই অগ্নিকাণ্ড কি সত্যিই কোনও দুর্ঘটনা? নাকি আন্তর্ঘাত? তাহলে কি নির্দিষ্ট কোনও অ্যাকাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য লোপাটের জন্যই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে?

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার অন্যান্য দিনের মতোই কাজ শুরু হয় এই ব্যাঙ্কে৷ বোলপুর – শান্তিনিকেতন রোডের উপরেই নিউ মার্কেটের দোতলায় রযেছে এই বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা। এদিন বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ হঠাৎই ব্যাঙ্কের কোনের ঘরে এসির ভিতর ধোঁয়া দেখা যায়৷ সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক খালি করে দেওয়া হয়৷ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে দ্রুত। গল গল করে বের হতে থাকে ধোঁয়া। কর্মী, আধিকারিক ও গ্রাহকদের দ্রুত সেখান থেকে বের করে আনা হয়৷ খবর পাঠানো হয় দমকলে৷

উল্লেখ্য, ব্যাঙ্ক থেকে দমকল কেন্দ্রের দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের৷ ফলে খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান দমকল কর্মীরা৷ প্রাথমিকভাবে পাঠানো হয় দুটি ইঞ্জিন৷ দমকলকর্মীরা ওই আগুন আয়ত্তে আনার জন্য দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ব্যাঙ্কের নথিপত্র পুড়ে যেতে পারে। তবে কর্মীরা অক্ষত রয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই ব্যাঙ্কের শাখায় এসি মেশিনে শর্ট সার্কিটের জেরে আগুন লেগেছে। কী কারণে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখছে দমকল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়বহ রূপ নেয়৷ আগুন বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় দমকল কর্মীদের৷ ঘটনাস্থলে আনা হয় আরও একটি ইঞ্জিন৷  কী কারণে আগুন লেগেছে, তা জানা যায়নি৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বোলপুর থানার পুলিশ৷ দমকলের কাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে ব্যাঙ্কের সামনের রাস্তায় যানচলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় আপাতত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কব্জায় অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু এই মামলার তদন্তে নেমে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা, তার বেশিরভাগই রয়েছে এই শাখায়। এই অ্যাকাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এরই মধ্যেই এই শাখায় আগুন লাগে। প্রচুর কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা যাচ্ছে, শেষ যেদিন অনুব্রতর বাড়িতে গিয়ে মেয়ে সুকন্যাকে জেরা করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি, সেদিনও একটি টিম এই ব্যাঙ্কে নথির খোঁজে গিয়েছিল। সূত্রের খবর, এই ব্যাঙ্কে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বিদ্যুৎ বরণ গায়েনের একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

কী ভাবে ব্যাঙ্কে আগুন লাগল তাও এখনও স্পষ্ট নয়। ঐ বেসরকারি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার রাজীব ঝাঁ বলেন, “সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাঙ্কের কাজ শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ আচমকাই ঘরের কোনে এসি মেশিন থেকে ধোঁয়া বেরোতে থাকে। আমরা তৎক্ষণাৎ গ্রাহক, কর্মী আধিকারিকদের ব্যাঙ্ক থেকে বের করে দমকলে খবর দিই। কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলতে পারব না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *