আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৬ সেপ্টেম্বর: পাঁচ বছরের এক শিশু কন্যাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ তার নিজের বাবার বিরুদ্ধে। মৃত শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মৃতদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাল মহিষাদল থানার পুলিশ। আর এই ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
গত শুক্রবার মহিষাদলের গাজিপুর গ্রামে অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু হয় এক পাঁচ বছরের শিশু কন্যার। কাউকে কিছু না জানিয়ে তড়িঘড়ি দেহটি কবর দিয়ে দেয় তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী সেক সিরাজুল। সেইসময় শিশু কন্যার মা বাড়িতে ছিলেন না। মেয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে মহিষাদল থানায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ জানায়। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে সেই রাতেই ঘটনার তদন্তে নামে মহিষাদল থানার পুলিশ। খবর পেয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবা। মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আজকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহটি কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। উত্তেজনা থাকায় এবং যাতে কোনও রকমের আইন শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা না হয়, তার জন্য মোতায়েন ছিল প্রচুর পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, মৃত শিশু কন্যার মা জানিয়েছে, তার মেয়ে জলে ডুবে মারা গেছে, এমনটাই তার স্বামী তাকে জানিয়েছিল। কিন্তু জলে ডুবে মারা গেলে মৃতার মাকে না জানিয়ে কেনই বা শিশু কন্যার দেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়া হল? তদন্তে নেমে পুলিশ এও জেনেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক গন্ডগোলের জেরে সিরাজুল ইসলাম বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। দিন কয়েক আগে মৃত শিশু কন্যার মাকে তার স্বামী সিরাজুল ফোনে হুমকি দেয়, সে যদি অবিলম্বে বাড়ি না ফেরে তাহলে সে তার ছোট মেয়েকে খুন করে দেবে। সেই সংক্রান্ত একটি অডিও পুলিশকে সিরাজুলের স্ত্রী দেয়। এরপর পুলিশ জানতে পারে প্রায়ই সিরাজুলের সাথে তার স্ত্রীর ঝামেলা লেগে থাকতো। এমনকি সিরাজুলের ছোট মেয়ে মৃত শিশু কন্যা তার নয় বলেও দাবি করতো সিরাজুল। সেই আক্রোশবশতই কি খুন, প্রশ্ন প্রতিবেশীদের।
তবে পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এলাকার তৃণমূল নেতা, তথা মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ কর্ম্যাধ্যক্ষ আহমেদ আলি অভিযুক্ত বাবা সেক সিরাজুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার বক্তব্য, জলে ডুবেই ওই শিশুটি মারা গেছে। ওর বাবা এই কাজ করতে পারেনা। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্ত হওয়ার আগে কিভাবে অভিযুক্তকে নির্দোষ বলছে তৃণমূল নেতা। তবে কি সিরাজুলকে আড়াল করতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির নেতা তপন ব্যানার্জি।


