মদ্যপ অবস্থায় চিকিৎসার অভিযোগ কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৮ জুন: মদ্যপ অবস্থায় চিকিৎসা করার অভিযোগ উঠল এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, চিকিৎসার
গাফিলতিতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি নদিয়ার কল্যাণীর জহর লাল মেমোরিয়াল হাসপাতালের।

মৃতের পরিবেরের সুত্রে জানা গেছে, কল্যাণী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মানিকচক এলাকার বাশিন্দা নয়ন গোয়ালি(১৯), সোমবার সন্ধ্যার সময় নিজের বাড়িতে অ্যাকোরিয়াম পরিস্কার করার সময় তার হাতের শিরা কেটে যায়। এর পর তার পরিবারের লোকেরা তাঁকে কল্যাণীর জহর লাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগ, এমার্জেন্সিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করে তার হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেইসময় পরিবারের লোকেরা তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সিন্ধান্ত নিতে থাকে। এমন সময় এক চিকিৎসক এসে নয়ন গোয়ালির পরিবারের লোকেদের জানায় আমি দেখছি। চিন্তা করতে হবে না। সেই সময় ডাক্তার বাবুর মুখ থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছিল বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। ডাক্তার বাবু নয়নের হাতের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়। তারপর হাত থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ভোরের দিকে হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয় নয়নের মৃত্যু হয়েছে।

এই ঘটনার পর মৃতার পরিবারের তরফ থেকে চিকিৎসকের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরিবারের লোকেরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কল্যাণী থানার পুলিশ। তারা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনার পর হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়, এই ঘটনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যদি চিকিৎসক মদ্যপ অবস্থায় এসে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন তাহলে চিকিৎসকের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এই প্রসঙ্গে, হাসপাতালের অধ্যপক সুবিকাশ বিশ্বাস বলেন, “রোগীকে প্ল্যাস্টিক সার্জারি করার জন্য রেফার করা হয়েছিল। সেই সময় একজন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনী ব্যান্ডেজ খোলে ড্রেসিং করার জন্য। ব্লিডিং বন্ধ করার চেষ্টা করে। তিনি ব্যর্থ হন। কারণ রোগীর বড় ধমনি কেটে গিয়েছিল। সে খুবই আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসেছিল। তাঁকে আমরা আইসিইউতে নিয়ে যাই। অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *