ভগবানপুরে ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যবসায়ী, বেছে নিলেন চরমপন্থা

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৭ সেপ্টেম্বর: দেনার দায়ে আত্মহত্যা করলেন এক ক্যাটারিং ব্যবসায়ী। মনে করা হচ্ছে তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। জনপ্রিয় এই ক্যাটারারের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের দাবি পাওনাদারদের চাপেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর এলাকায় খুব জনপ্রিয় ক্যাটারিং ব্যবসায়ী প্রদীপ মান্না। তাঁর বাড়ি ভগবানপুর থানার খাজুরআড়ী গ্রামে। বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন রান্না ও পরিবেশনের একটি দল। দলের নাম আদর্শ ক্যাটারিং।

সোমবার বিকেলে হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান প্রদীপ মান্না। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের এক জঙ্গল থেকে ওদিন রাতেই উদ্ধার হয় তার দেহ। উদ্ধার করে ভগবানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রদীপকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সন্দেহ বিষ জাতীয় কিছু খাওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে। কারণ, উদ্ধারের সময় মুখে গ্যাঁজলা বা ফেনা জাতীয় জিনিস দেখা গেছে।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দেনার দায়ে জর্জরিত ছিল প্রদীপ। দেনা ক্রমে বাড়ছিল দিনে দিনে। রাস্তাঘাটে বেরোলেই টাকার জন্য চাপ দিত পাওনাদাররা। ক্যাটারিং ব্যবসা থেকে যা রোজগার হোত সব চলে যেতো ধারের টাকার সুদ মেটাতে। তারপরও অনেক ঋণ যা পরিশোধ করতে আবার ধার করেছেন কারুর কাছে। স্ত্রী ও পুত্র এ বিষয়ে একমত যে দেননার দায়ে, পাওনাদারদের চাপেই আত্মহত্যা করেছে প্রদীপ।

প্রদীপ আত্মহত্যা করায় পরিবারও কিছুটা দিশেহারা। টালির চালার ছোট্ট মাটির ঘরে এখন হাহাকার আর শূন্যতা।

তবে প্রদীপের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় বহুপ্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে লোকের কোনওরকম কোনও নেশা নেই। যার মাটির ছোট্ট বাড়ি। যার নিয়মিত একটা রোজগার ছিল। সেই প্রদীপ কি করে ডুবে গেল দেনার পাঁকে? প্রদীপের মৃতুর পিছনে রহস্য কী? হঠাৎই কেন নিভে গেল প্রদীপ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *