নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর, ২ জুলাই: প্রকাশ্য দিবালোকে শুট আউটের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল ভাটপাড়া পৌরসভায় অন্তর্গত ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। সালাউদ্দিন আনসারি নামে এক ঠিকাদারকে গুলি করে হত্যা করলো দুষ্কৃতীরা।
অভিযোগ শনিবার সকালে পঙ্কজ নামে এক ঠিকাদার তার সঙ্গীদের নিয়ে আসে আর সালাউদ্দিনকে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। এরপর সালাউদ্দিনের সাথে তাদের বচসা বাঁধে এবং তাঁরা সালাউদ্দিনকে লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে সালাউদ্দিন। প্রতিবেশীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
সালাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় ভাটপাড়া, নৈহাটি ও জগদ্দল থানার পুলিশ বাহিনী। এরপর বেলা বাড়তেই ভাটপাড়া বাঁকর মহলে ঘটনার তদন্তে আসেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চ পদস্থ কর্তারা। আসেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি নর্থ শ্রীহরি পান্ডে। তিনি এসে ঘটনাস্থল ভালো করে খতিয়ে দেখেন। এলাকার মানুষদের সাথেও কথা বলেন। সেই সঙ্গে ওই এলাকা ও তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে কিছু বলতে চাননি।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণে এই খুন হয়ে থাকতে পারে। সূত্রের খবর অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি দুষ্কৃতী মূলক কাজকর্মের সাথে যুক্ত ছিল। তার নামে অনেকগুলি মামলাও চলছে। সে ক্ষেত্রে পুরনো শত্রুতার জের ধরে এই খুন হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে পঙ্কজ নামে ভাটপাড়া পৌরসভার এক ঠিকাদার ও তার কিছু সঙ্গীর নাম পেয়েছে। সেই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
নিজের গড় ভাটপাড়াতে গুলি করে যুবক খুনের ঘটনায় মুখ খুললেন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বলেন মৃত সালাউদ্দিন আনসারী একজন দুষ্কৃতী ছিল। আর যারা খুন করেছে তারা ওর সঙ্গী বলেই জানা যাচ্ছে। আসলে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে গণ্ডগোল জেরে এই খুন হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ তদন্ত করছে। নিশ্চই সত্যটা বেরিয়ে আসবে।”

