বাসন্তীতে জলে ডুবে মৃত্যু হল এক শিশুর, হাসপাতালে না নিয়ে তুকতাক করল পরিবার

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১১ অক্টোবর: ফের জলে ডুবে মৃত্যু হল এক শিশুর। মৃতার নাম রঞ্জনা সিং(১)। বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ নম্বর আমঝাড়া পুকুরপাড়া গ্রামে। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির দেহ ভেসে ওঠে বাড়ির পাশের পুকুরে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হাসপাতালে না নিয়ে তাকে নিয়ে ঐ পুকুর ও পুকুরের চারপাশে নানা ধরনের তুকতাক শুরু করে দেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে তুকতাক, ঝাড়ফুঁক, জল পেটানো, আগুন জ্বালানোর মত কর্মকাণ্ড করেও প্রাণ ফেরেনি শিশুটির। প্রায় দ’ঘন্টা বাদে স্থানীয় এক চিকিৎসককে সেখানে পরিবারের সদস্যরা ডেকে আনলে তিনি শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুকুরে থাকা জল রাক্ষস নাকি শিশুটিকে গিলে খেয়েছে। তাকে পেটালেই শিশুটির শরীরে প্রাণ ফিরবে। তাই মাথায় করে শিশুটিকে নিয়ে পুকুরের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করা হয় বেশ খানিকক্ষণ। পাশাপাশি জলে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। যাতে জল রাক্ষস সেই লাঠির আঘাতে ঘায়েল হয়ে শিশুটির প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি পুকুরের চারিপাশে আগুন জ্বালানো হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় পুকুর পাড়ে থাকা একটি তাল গাছেও। এলাকাবাসীদের বিশ্বাস লাঠির আঘাতে জল ছেড়ে শিশুটির প্রাণ নিয়ে যাতে পালাতে না পারে ওই জল রাক্ষস, পালালে এই আগুনে পুড়ে মরবে সে। প্রাণ ফিরে পাবে শিশুটি। দীর্ঘক্ষণ ধরেই চলে এই তুকতাক। কিন্তু প্রাণ ফেরেনি ছোট্ট রঞ্জনার।

তার বাবা সঞ্জয় সিং বলেন, “এর আগেও গ্রামের অনেক শিশুই জলে ডুবেছে। তাদেরকে এভাবেই জল পিটিয়ে, আগুন ধরিয়ে প্রাণে বাঁচিয়েছি আমরা নিজেরাই। তাই মেয়ের জন্য সেই চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হল না। দু ঘণ্টা বাদে ডাক্তার এসে বলে মেয়ে বেঁচে নেই।”

শিশুর মা করুণা সিং বলেন, “কত করে বললাম, মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে চলো, কেউ শুনল না। বাঁচাতে পারলাম না মেয়েকে।”

ঘটনার কথা শুনে নিন্দা করেছেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞান কর্মীরা। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক তথা বিজ্ঞান কর্মী সমরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “যেখানে আমরা বিজ্ঞানকে সহায় করে চাঁদে পৌঁছে যাচ্ছি, সেখানে এখনও এই মানুষগুলি কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন। সঠিক সময়ে ঐ শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাঁকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হত। এই কুসংস্কার মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”

সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গিয়েছে, সুন্দরবন এলাকা জলে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে। সেই তালিকায় বুধবারও নতুন করে সংযোজন হল বাসন্তীর এই ঘটনা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অন্যদিকে স্কুল পড়ুয়াকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় জখম হলেন রেজাউল মণ্ডল নামে এক স্কুটি চালক। তালদির বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের কাঁটা খাল এলাকায়। গুরুতর জখম হলে তাঁকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *