আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৬ আগস্ট: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্তের জন্য সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। ভোট পরবর্তী হিংসায় গত ৬ জুন বলি হয়েছেন ভাটপাড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুলিডিপোর বাসিন্দা বিজেপি কর্মী জয়প্রকাশ যাদব। পেশায় জুট মিল কর্মী তার ঘরে বসে দুপুরের খাওয়ার খাচ্ছিলেন সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাকে লক্ষ্য করে ঘরের মধ্যে বোমা মারে। বোমার ঘায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন জয় প্রকাশ যাদব। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। সেই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং ও মৃত বিজেপি কর্মীর আত্মীয়রা। সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক হিংসার বলি বলে ধরা হয় এবং এর তদন্ত ভার সিবিআইকে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ২-১০ মিনিটে সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল জয়প্রকাশের বাড়িতে আসেন। তারা দীর্ঘক্ষণ নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। নিহতের পড়শিদের সঙ্গেও কথা বলেন সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ঠিক ছিল কি না, তাও জানেন নিহতের পরিবারের কাছ থেকে। এরপর ৩-২০ নাগাদ এক মহিলা অফিসার-সহ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিম আসেন। তারা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ফটোগ্রাফার এনে ছবি সংগ্রহ করেন। গলির দূরত্ব ফিতে দিয়ে মেপে নিয়েছেন। যে ঘরে জয় প্রকাশ যাদবকে মারা হয় সেই ঘরের দরজার উচ্চতাও তারা মাপেন। যদিও তারা সাংবাদমাধ্যমের কাছে কিছুই জানাতে চাননি।
জয়প্রকাশের পরিবারের দাবি, ঘটনায় অভিযুক্ত টুনটুন চৌধুরী ও অনিমেষ পাল ধরা পড়েছে। মূল অভিযুক্ত লালন সিং ও তার পুত্র চন্দন সিং এখনও ফেরার। নিহতের স্ত্রী সঙ্গীতা যাদব বলেন, পুলিশের ওপর একদম আস্থা নেই। সিবিআই তদন্তে সঠিক বিচার পাব। তবে ঘটনায় জড়িতদের তারা ফাঁসির দাবি করেন।
এদিন মৃত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী সঙ্গীতা যাদব বলেন, “৩ মাস হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তদন্ত তেমন হল না। এবার সিবিআই এসেছে তারা জিজ্ঞাসা বাদ করছেন, আমাদের তারা আশ্বাস দিয়েছেন দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হোক।”

