চৌদ্দবাতি জ্বালিয়ে চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত রোখার ডাক

আমাদের ভারত, ১৪ ই অক্টোবর: ছিল বিশ্বহিন্দু পরিষদের আয়োজনে চৌদ্দপ্রদীপ বিতরণের অনুষ্ঠান এবং বিজয়া সন্মেলন। ডাক দিয়েছিল খড়দহ গ্রামীণ প্রখণ্ড, বিলকান্দা -১ এবং ২, কিন্তু তাকেই নবতর তাৎপর্যে উপস্থাপন করলেন বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।

এদিনের সভার প্রধান অতিথি ড. চক্রবর্তী বলেন, “বারে বারে চৌদ্দ পুরুষের ভিটে থেকে হিন্দুরা উৎপাটিত হয়েছে, প্রতিবেশীরা তাদের বিধর্মীও করেছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে, মহিলাদের ধর্ষণ ও হত্যা করেছে৷ পূর্ব পাকিস্তানে, স্বাধীন বাংলাদেশে তা আকছার হত এবং হয়। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলার গ্রামীণ এলাকাতে সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে। পালাতে পালাতে শেষ সীমায় চলে এসেছে বাঙালি হিন্দু। আর পালানোর জায়গা নেই। সাম্প্রতিক মোমিনপুরের ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে রাজ্যবাসীকে। এবার তাই জন জাগরণ। সমস্ত হিন্দুর কাছে এমনকি তার পূর্ব পুরুষের মৃত আত্মার কাছে জানিয়ে দিতে হবে, হিন্দুদের প্রতি নেমে আসা আক্রমণের প্রতিটি ধারাপাত।”

অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেন, এবার কালীপূজার আগে চতুর্দশীর দিনটি হোক চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটিতে টিকে থাকার সলতে পাকানোর দিন। বাংলার প্রতিটি মাতৃশক্তি এদিন ভিটে আলো করে প্রার্থনা জানাক, নিজের ভিটে কোনোমতেই ছাড়বেন না তারা। ল্যান্ড জেহাদের বিরুদ্ধে, বিধর্মীদের অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই দীপ জ্বালানোর লড়াই চালাবেন। কালোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিতবেন তারা।

খড়দহ বিধানসভা ক্ষেত্রের অন্তর্গত লেনিননগরে বিশ্বহিন্দু পরিষদ এদিন সন্ধ্যায় এই সভার আয়োজন করে। পরিষদের প্রচার ও প্রসার সংক্রান্ত এই সভায় দেখা গিয়েছে স্থানীয় মাতৃশক্তির ঢল। খড়দহ গ্রামীণ প্রখণ্ডের কার্যকর্তারা এদিন চৌদ্দপ্রদীপ বিতরণ করেন। তারপর পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতেও সম্পর্ক করতে যান অধ্যাপক চক্রবর্তী। সঙ্গে থাকেন স্থানীয় কার্যকর্তারা। আগামী দিনে এই সংগঠনের তরফে যাতে স্থানীয় মন্দির ও দেবালয়ের সঙ্গে সত্য সম্পর্ক রচনা করা যায়, তার উপর জোর দেন অধ্যাপক চক্রবর্তী। হিন্দুর বিপদে হিন্দু এগিয়ে আসুক, এই আবেদন জানিয়ে সভা শেষ হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রখণ্ডের সভাপতি, সম্পাদক, সহ সম্পাদক এবং অন্যান্য সক্রিয় কার্যকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *