পাণ্ডবেশ্বরের শ্মশান ঘাটে বোমা বিস্ফোরণ, ভেঙ্গে পড়ল প্রতিক্ষালয়

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৯ জুন: জেলায় মুখ্যমন্ত্রী। আঁটোসাটো নিরাপত্তা বলয়। আর তাঁর জেলা সফরে খনি অঞ্চলের শশ্মানে বোমা বিস্ফোরণ। বোমা বিস্ফোরণে ভেঙ্গে পড়ল প্রতিক্ষলয়। বুধবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, পান্ডবেশ্বর শ্মশানে। ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার থেকে আসানসোল- দুর্গাপুর সফরে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ছিল দুর্গাপুর সৃজনীতে প্রশাসনিক বৈঠক। আর ঠিক এদিনই পাণ্ডবেশ্বরে শ্মশানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়াল। এদিন সকাল নাগাদ পাণ্ডবেশ্বরের অজয় নদী সংলগ্ন একটি শ্মশানঘাটের পুরনো চারটি বাড়ি বোমা বিস্ফোরণে ভেঙ্গে পড়ল, এমনটাই অভিযোগ করছেন আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তথা পান্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি নেতা এই ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি করেন। যদিও নির্জন স্থানে পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘটনা ঘটায় কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও পুলিশ রহস্যজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করে ফরেন্সিক পরীক্ষার ব্যাবস্থা করছেন।

জিতেন্দ্র বাবুর অভিযোগ, “পাণ্ডবেশ্বর এলাকায়
দুষ্কৃতী, সমাজ বিরোধীদের স্বর্গরাজ্য। বোমা মজুত ও সমাজবিরোধীদের সক্রিয়তার বিষয় পুলিশকে বহুবার জানিয়েছি। কিন্তু দুষ্কৃতীদের সঙ্গে শাসকদলের যোগ থাকায় তদন্ত হয়নি।” তিনি বলেন, “শ্মশানে যেভাবে বোমা বিস্ফোরণে পরপর চারটি বাড়ি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে, তাতে কমপক্ষে ১০০টির বেশি বোমা মজুত ছিল। যেগুলি বিস্ফোরণ হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ঘটনার পিছনে শাসক দলের মদত রয়েছে। পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় শাসক দলের লোকেরা শুধু বোমা পিস্তল মজুতেই ব্যস্ত। এত বড় ঘটনা এটা কোনো সামান্য ব্যাপার নয়। এটা সমাজের পক্ষে, রাজ্যের ও দেশের পক্ষে বিপদজ্জনক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বহুবার তল্লাশির জন্য বলেছেন। অথচ পুলিশ কোনো অজ্ঞাত কারণে এসব আড়াল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তাই এই ঘটনায় সঠিক তদন্তের জন্য এনআইএ তদন্ত হোক। এনআইএ’র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যের বিরোধী
দলনেতাকে জানিয়েছি। পুলিশের কাছে অনুরোধ এনআইএ না আসা পর্যন্ত ঘটনাস্থলের নমুনা সুরক্ষিত রাখা হোক।”

যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুজিত মুখার্জি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “পুলিশ তদন্ত করছে। ঘটনার রহস্য উঠে আসুক এবং অপরাধীরা যে দলের হোক, আইন আইনের পথে চলবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *