সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ আগস্ট: কাজ দেওয়ার নাম করে এক বাংলাদেশি কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠলো ৪ যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত যুবকদের গ্রেফতার করেছে বাগদা থানার পুলিশ। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার মনটোপ্লা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের নাম সনজ বৈরাগী, প্রমথ মন্ডল, হিরো দাস এবং প্রদীপ বিশ্বাস। তারা বাগদা এলাকার বাসিন্দার বলে যানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, কলকাতায় পরিচারিকার কাজ দেওয়ার নাম করে বাংলাদেশের ৩ নাবালিকাকে ভারতে নিয়ে আসে দালালরা। প্রথমে বাংলাদেশি এক দালাল তাদের চোরাপথে সীমান্ত পার করিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে বাগদা সীমান্ত দিয়ে পার হওয়ার পর তারা এসে পড়ে ভারতীয় এক দালালের হাতে। ওইদিন তাদের বাগদার হেলেঞ্চা এলাকার একটি নির্জন পোল্ট্রি ফার্মে নিয়ে রাখা হয়। কথা ছিল, তাদের কলকাতায় পরিচারিকার কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। দালালদের কথায় ভরসা করে তাদের কথামতোই ওই ৩ নাবালিকা বাগদা এলাকায় আশ্রয় নেয়। এরপর রাতের দিকে ভারতীয় দালাল তার আরও ৩ সঙ্গীকে নিয়ে এসে নাবালিকাদের মধ্যে একজনকে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ওই নাবালিকাদের নির্জন এলাকায় অন্ধকারে কান্নাকাটি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই বাগদা থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ গিয়ে ৩ বাংলাদেশি নাবালিকাকেই সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে অত্যাচারিতা ওই নাবালিকা বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ৪ যুবককে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি বাগদা থানা এলাকায়। পকসো আইনে মামলা রুজু করে শনিবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে তোলা হয়। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। বিচারক পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

