ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত ভাটপাড়ার জুটমিল শ্রমিক আকাশ যাদবের বাড়িতে সিবিআইয়ের ২২ জনের প্রতিনিধি দল

প্রতীতি ঘোষ , ব্যারাকপুর, ৩০ আগস্ট:
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তে নেমে এবার সিবিআই এর প্রতিনিধি দল পৌঁছে গেলো ভাটপাড়া পৌর এলাকায় খুন হওয়া আকাশ যাদবের বাড়িতে। গত ২ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৪ বছরের আকাশ যাদবকে। সেই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছিল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও আকাশের পরিবার। যদিও তৃণমূলের পালটা অভিযোগ করেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জগদ্দল ও ভাটপাড়ার বিভিন্ন এলাকা, এখনও তার বিরাম নেই। চলছে একের পর এক দুষ্কৃতী হামলা, খুন ও বোমাবাজির ঘটনা। ২ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর বেলা একটা নাগাদ ফোন করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় আকাশ যাদবকে। তাঁর বাড়ি জগদ্দল থানার ভাটপাড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানীতলার ১১ নম্বর গলিতে।
তারপর বাড়ির কাছেই গুলি করে খুন করা হয়েছিল ওই জুটমিল কর্মী আকাশ যাদবকে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ছিলো আকাশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে খুন করা হয়েছে। তবে পেশায় মেঘনা জুটমিলে শ্রমিককে কেনো খুন হতে হলো তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হিংসার কারনে খুন বলে দাবি করেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাই এই ঘটনার তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলও এর আগে এসেছিলেন। সোমবার আকাশের বাড়িতে আসেন সিবিআইয়ের ২০ থেকে ২২ জনের একটি প্রতিনিধি দল।

তদন্ত কারীরা আকাশের পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জেনে নেন। যেখানে আকাশকে খুন করা হয় এদিন সিবিআই এর তদন্তকারী দলের সদস্যরা সেই জায়গা যান ও সেই জায়গা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। সূত্রের খবর এদিন সিবিআই এর প্রতিনিধি দলের কাছে আকাশ এর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন আকাশের খুনের সাথে যুক্ত, সুমিত যাদব, সাগর, পঙ্কজ-সহ যারা অভিযুক্ত তারা এখনো অধরা। আকাশের পরিবারের সদস্যরা সংবাদ মাধ্যমে কাছে আরো অভিযোগ করেন, “এই ঘটনায় সুমিতের ভাই ছটু যাদব ফোন করে ওকে বাড়ির বাইরে ডেকেছিল। আর তারপর গুলিবিদ্ধ হন আকাশ। কেউ ধরা পরেনি বরং ওরা বহাল তবিয়তে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী এবার মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়বে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *