আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৮ জুলাই: মৃত্যু মানেই বেদনার, তবে তা যদি হয় শতবর্ষ পার, তবে বোধহয় মানেটা একটু বদলে যায়। কোনো রোগে নয়, অসুস্থ কিংবা হাসপাতালেও ভর্তি নয়, নদিয়ার ফুলিয়ার ঘোষ পাড়ার পার্বতী ঘোষ আজ সকাল ১১টা নাগাদ মারা যান বয়স জনিত কারণে। বয়সটাও নেহাত কম নয় ১১০ বছর পার। স্বামী নকুল ঘোষ ৬ বছর আগে মারা যান।
জানা যায়, বৃদ্ধার আট ছেলে ও এক মেয়ে। পার্বতীদেবীর ছেলে এবং মেয়ের ঘরের নাতি নাতনির সংখ্যা প্রায় চল্লিশ। আবার তাদের সন্তান-সন্ততি অর্থাৎ মৃত বৃদ্ধার পুতির সংখ্যাও ৫০ ছুঁইছুঁই। মোট চার প্রজন্মের প্রায় দুই শতাধিক আত্মীয়-স্বজন নিয়ে নেচে গেয়ে শ্মশান যাত্রা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বতীদেবীর ইচ্ছাতেই নাকি এই ব্যবস্থা। সুদূর ফুলিয়ার ঘোষপাড়া থেকে ফুলিয়া বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত শতাধিক নাতি নাতনির কাঁধে চেপে তাসা ব্যঞ্জন বাজিয়ে নিয়ে যাওয়া। যদিও ফুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পর থেকে শ্মশান পর্যন্ত দুটি বড় সাইজের ম্যাটাডোর ভাড়া করে ম্যাটাডোরে করে শান্তিপুর শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় দাহ করার জন্য।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মৃতার শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই তাসা ব্যঞ্জন বাজিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। ঠাকুমার স্বর্গ লাভের কারণে বয়স্করাও আনন্দে মাতোয়ারা।

