আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৫ নভেম্বর: গরু পাচার মামলায় দিল্লির তিহার জেলে বন্দি তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তারপরও বন্ধ হয়নি গরু পাচার। পশু হাটে তোলার আগেই ৫০টি গরু আটক করে তারই প্রমাণ রাখলেন বীরভূমের রামপুরহাট থানার সৈপুর গ্রামের মানুষ। গ্রামবাসীদের চাপে পড়ে গরুগুলি আটক করেছে পুলিশ। বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় গরুগুলি আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুগুলি রামপুরহাট থানার সৈপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে। গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলার খৈরি সিন্নি গ্রাম থেকে গরুগুলি লরিতে বোঝাই করে বীরভূমের রামপুরহাট থানার পাইকপাড়া গ্রামে নামানো হচ্ছে। এরপর গ্রামের পথ ধরে ধরে গরু পৌঁছে যাচ্ছে রামপুরহাটের পশু হাটে। অভিযোগ, সেখান থেকেই গরুগুলি পাচার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে শাসক দলের এক নেতা জড়িত রয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। মদত রয়েছে পুলিশেরও।

গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাক খান বলেন, “গরুগুলি পশু হাটে নিয়ে গিয়ে পাচার করা হয়। প্রত্যেক বুধবার গ্রামের পথ ধরে এভাবে শয়ে শয়ে গরু পাচার হয়ে যাচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও অবৈধ গরু আটক করা হয়েছিল। কিন্তু দাদপুর গ্রামের এক মস্তান হুমকি দিয়ে গরুগুলি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি”।
গ্রামের বাসিন্দা মোসাফির হোসেন বলেন, “এর আগেও আমরা সতর্ক করেছিলাম। তারপরও চোরাই গরু গ্রামের উপর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গরুর কোনো মালিক ছিল না। কয়েকজন লোক ডাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এর সঙ্গে রামপুরহাটের পশু হাটের মালিক জড়িত রয়েছে। তিনিই গরু পাচারের রাস্তা ঠিক করে দেন। শাসক দলের নেতা হওয়ায় পুলিশও এতদিন মুখ বুঁজে ছিল। এদিন আমরা গরু ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পুলিশ আটক করতে বাধ্য হয়েছে। শুধু এই পঞ্চাশটি গরুই নয়, আশপাশের গ্রামের আরও তিনশোটি গরু লুকিয়ে রাখা হয়েছে”।

পশু হাটের মালিক আকবর আলম বলেন, “বাইরে থেকে গরু না এলে হাট চলবে কিভাবে? কোনো গরু চোরাই নয়। প্রত্যেক গরুর কাগজ রয়েছে। গ্রামবাসীরা নিজেদের স্বার্থে গরু আটক করেছে। তারা ওই গরু নিজেরা কিনে হাটে বেশি দামে বিক্রি করত। এখন বাইরের গরু সরাসরি হাটে বিক্রি হচ্ছে। সেই কারণেই স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষ এসব করছে”।
রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, “সৈপুর গ্রাম ছাড়াও নারায়ণপুর গ্রাম থেকে আরও ত্রিশটি গরু আটক করা হয়েছে। গরুগুলি হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। গরুগুলির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কেউ”।

