৮০ টি বেড অথচ শিশু ভর্তি ২৩৬, বহুজনের করোনার উপসর্গ থাকলেও কোভিড টেস্ট হয়নি, পুরুলিয়া হাসপাতাল ঘুরে তোপ শুভেন্দুর

আমাদের ভারত, ১৭ সেপ্টেম্বর:
দলীয় কর্মসূচির কারণে বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সফরের শেষে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশু সেখানে ভর্তি নিয়ে রয়েছে। সেই খোঁজ নিতেই পৌঁছন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। এরপর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে শুভেন্দু লেখেন, ডেপুটি সুপারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এমন বহু শিশু হাসপাতালে ভর্তি যাদের করোনা উপসর্গ থাকা সত্বেও কোভিড পরীক্ষা হয়নি। এছাড়া ওই হাসপাতালে ৮০টি বেড রয়েছে কিন্তু ২৩৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, “পুরুলিয়া জেলা সফর শেষে ফেরার পথে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অজানা জ্বর ও ফ্লুতে আক্রান্ত কতজন শিশু ভর্তি রয়েছে খোঁজ নিতে হাসপাতালে উপস্থিত হই। ডেপুটি সুপার মহোদয়ের অফিসে গিয়ে ওনার সঙ্গে দেখা করে কথা বলে যা বুঝলাম ২৩৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। কোভিড উপসর্গ থাকা সত্বেও কোভিড টেস্ট করানো হয়নি। এখানকার পরিকাঠামো অত্যন্ত নিম্নমানের। অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোই উদ্বেগের কারণ।”

এরপর শুভেন্দু তোপ দেগে বলেন, “আসলে ১০ বছরে এখানে স্বাস্থ্য বিভাগে পরিকাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি। ২৩৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন অথচ বেড রয়েছে মাত্র ৮০ টি। ডেপুটি সুপার মহোদয়কে অনুরোধ করছি গুরুতর অসুস্থ শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য কলকাতার কোনও সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হোক। সেটা সম্ভব না হলে বিকল্প স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য শিশুদের অভিভাবকের সম্মতি থাকলে আমাদের পুরুলিয়া সাংসদ বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করলাম এবং আস্বস্ত করছি আমরা সব রকম ভাবে সাহায্যের জন্য পাশে রয়েছি।”

এর আগেই শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন এবং অভিযোগ করেছেন শিশুদের জ্বরের প্রকোপের কারণ কী, তা এখনও রাজ্য সরকার জেনে উঠতে পারেনি। রাজ্য সরকার জ্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়েই বেশি ব্যস্ত। আশঙ্কা প্রকাশ করে শুভেন্দু জানিয়েছেন তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে,এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে অজানার জ্বর নিয়ে হাসপাতালে সাড়ে সাতশোর বেশি শিশু ভর্তি। তার মধ্যে কয়েকটি শিশু মারাও গেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না বরং ভবানীপুর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। শুভেন্দুর ধারণা শিশুদের জ্বরের বিষয়টি সামনে এলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। কারণ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর তার প্রভাব ভবানীপুর উপনির্বাচনেও পড়বে। সেই কারণেই বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাই তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। আবেদন করেছেন কেন্দ্র যাতে যত শীঘ্র সম্ভব রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিনিধি দল পাঠায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *