খয়রাশোলের নওপাড়া কান্ডে ধৃত ৮, অভিযুক্ত ৬২ জনের বেশি

আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ২৯ জানুয়ারি: পুলিশ ও কয়লা মাফিয়াদের খণ্ডযুদ্ধের ঘটনায় আট দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার তাদের বীরভূমের দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

শুক্রবার বেলার দিকে অবৈধভাবে মজুত কয়লা বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে পুলিশের। পুলিশের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি, পাথর ছোঁড়ে। পাথরে দুই পুলিশ কর্মী জখম হন। কয়লা বোঝাই ডাম্পারে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। ভাঙ্গচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। ঘটনার পরেই পুলিশ রাতভর তল্লাশি চালিয়ে আট দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হল শেখ মোবারক হোসেন, শেখ হামিদ, শেখ শওকত, শেখ দুলাল, শেখ সাইমুদ্দিন, শেখ নইমুদ্দিন, শেখ মোহর আলি। ধৃতরা সকলে নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা, বেআইনিভাবে কয়লা মজুত, উস্কানি দিয়ে জমায়েত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ৬২ জন সহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এদিন দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক বিবেক তামাং ধৃতদের ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী রাজেন্দ্রনাথ দে বলেন, “এদিন লোকপুর থানার পুলিশ নওপাড়া কাণ্ডে যুক্ত সন্দেহে ৮ জনকে দুবরাজপুর আদালতে তোলে। বিচারক তাদের জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন”

এদিন গ্রামে গিয়ে দেখা গেল শুনশান রাস্তা। পুরুষ শূন্য গ্রাম। মহিলারা থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়নি। গত রাতেই পুলিশ সমস্ত অবৈধ কয়লা উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়লার ডিপোর পাশে পড়ে আছে পুড়িয়ে দেওয়া ডাম্পারটি। জেলা পুলিশের আধিকারিকদের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী খয়রাশোল, লোকপুর এবং কাঁকড়তলা থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। কয়লা মাফিয়াদের মূল চক্রান্তকারীর সকলেই বেগতিক বুঝে গা ঢাকা দিয়েছে।

খয়রাশোল থেকে হাত বাড়ালেই ঝাড়খন্ড সীমানা। সে কারণে পুলিশের অনুমান ঝাড়খন্ড রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তার আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৬ সালে মজুত বিস্ফোরকের বিস্ফোরণে নওপাড়া গ্রামেরই আদর্শ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভেঙ্গে পড়ে। ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লোকপুর থানার শিবপুরে বিস্ফোরকের মারাত্মক বিস্ফোরণে মারা যায় দুই জন। সবক্ষেত্রেই অধরা থেকেছে দুষ্কৃতীরা। কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আসছে তার খোঁজ করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *