পার্থ খাঁড়া, ঝাড়গ্রাম, ৫ জুলাই: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের উপর হামলা এবং মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ির ভাঙ্গচুরের ঘটনায় আরো সাতজন কুড়মি নেতা এবং আন্দোলনকারীকে পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে জামিন মঞ্জুর করল ঝাড়গ্রাম আদালত। কিন্তু কুড়মি সমাজের প্রভাবশালী নেতা রাজেশ মাহাতো ও শিবাজী মাহাতো সহ আরো এক আন্দোলনকারী জেলেই থাকছেন।
মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম জেলা বিচারকের এজলাসে পৃথক চারটি মামলায় অভিযুক্ত কুড়মি আন্দোলনের নেতা রাজেশ মাহাতো সহ ১০ জন জেলবন্দির জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল। জামবনি থানার দু’টি পথ অবরোধের মামলা, মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার চালকের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের পুলিশি মামলা এবং সাঁকরাইল থানার একটি মামলায় দশ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা বিচারক জীমূতবাহন বিশ্বাস। ১০ জনের জামিন মঞ্জুর হলেও অন্য মামলায় জামিন না মেলায় রাজেশ মাহাতো, শিবাজী মাহাতো ও জয় মাহাতো আপাতত জেলে থাকবেন। বাকি ৭ জন ছাড়া পাবেন।
জানা গিয়েছে, খড়গপুরের খেমাশুলিতে জাতীয় সড়ক অবরোধের পুরনো মামলায় রাজেশ ও শিবাজী মাহাতো অভিযুক্ত। ওই মামলাটি মেদিনীপুর জেলা আদালতে বিচারাধীন। অন্যদিকে, মানিকপাড়ায় টিএমসিপি নেত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির একটি পুরনো মামলায় জয় মাহাতো অভিযুক্ত। ওই মামলাটি ঝাড়গ্রাম সিজেএম আদালতে বিচারাধীন। ফলে, রাজেশ, শিবাজী ও জয় আপাতত জেলেই থাকছেন।মঙ্গলবার রাতে ঝাড়গ্রামের বিশেষ সংশোধনাগার থেকে ৭জন কুড়মি নেতা ছাড়া পেয়ে বাইরে বেরোতেই তাদের উত্তরীয় ও ফুলের মালা পরিয়ে মিছিল করে কুড়মি সমাজের মানুষজনরা। কুড়মি সমাজের নেতা অশোক মাহাতো এদিন বলেন, “অত্যন্ত খুশির খবর আমাদের কাছে, তবে আমরা আরো খুশি হবো যেদিন বাকি আন্দোলনকারী নেতৃত্ব মুক্তি পাবে সেই অপেক্ষায় সকল আন্দোলনকারী।”
প্রসঙ্গত, মে মাসের ২৬ তারিখ ঝাড়গ্রামে নবজোয়ার কর্মসূচিতে এসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রাম থানার অন্তর্গত গড়শালবনি এলাকায় তাঁর কনভয়ের উপর হামলা এবং মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠে কুড়মি সমাজের মানুষজনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ তদন্তে নেমে আট জনকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হলে সিআইডি আরো তিনজন কর্মী, নেতা ও আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে। ঘটনায় গ্রেফতার হয় মোট ১১ জন। কয়েকদিন আগে আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতি অনুপ মাহাতো জামিনে মুক্ত হন। এদিন আরো ৭ জন কুড়মি সমাজের নেতা এবং আন্দোলনকারী জামিনে মুক্তি পেলেন।

