আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ২০ ডিসেম্বর: অবৈধ কল সেন্টার খুলে যুবক ও মাঝ বয়সী পুরুষদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত ও ব্ল্যাকমেল করে টাকা লুট করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। কয়েকমাস থেকে এই কল সেন্টার চলছিল জলপাইগুড়ি’র রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলাকোবা স্টেশন কলোনির একটি বাড়িতে। বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল এই কারবার। মঙ্গলবার সেন্টার থেকে পাঁচজন তরুণী ও তিনজন পুরুষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার ধৃতদের জেলা আদালতের সিজেএম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) কোর্টে তোলা হয়।
সহকারি আইনজীবী মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তিনজন পুরুষকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল। বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। পাঁচজন তরুণীকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অভিযোগ অবৈধ কল সেন্টার খুলে বিভিন্নভাবে পুরুষের ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করা হচ্ছিল।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেন্টার থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১৩টি স্মার্ট ফোন, ১৩টি সাধারণ ফোন, অসংখ্য মোবাইলের সিম, ল্যাপটপ, অনলাইনে টাকা লেনদেনের কিউআর কোড, ব্যাঙ্কের পাস বই, এছাড়া একটি বিলাশ বহুল গাড়ি। এই বিলাশ বহুল গাড়ি করে যাতায়াত করত তরুণীরা। ধৃত পাঁচজন তরুণীর বাড়ি শিলিগুড়ি এলাকায়। ধৃত তরুণীরা হলেন কাজল শেরফা, বাড়ি প্রধাননগরে; নিশা গুপ্তা, বাড়ি শিলিগুড়ির ১১ নম্বর ওয়ার্ডে; খুশবু খাতুন, বাড়ি শিলিগুড়ির ঝংকার মোড়; মধু মাহাতো, মহানন্দা পাড়া ওয়ার্ড নম্বর ৬; মঞ্জু সিং, বাড়ি লোয়ার বাগডোগরায়।
অন্যদিকে সঞ্জয় দে, বাড়ি রাজগঞ্জে; তণ্ময় হালদার, বাড়ি শিলিগুড়ির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অন্যদিকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে স্বপন দাস, সে রাজগঞ্জের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কে কে যুক্ত রয়েছে এই অবৈধ কল সেন্টারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

