সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১২ সেপ্টেম্বর: বিধানসভা নিৰ্বাচনের পর থেকে বিজেপির ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে বিজেপির বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা দুটিতে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান পর্ব চলছেই। আজ রবিবার বড়জোড়া বিধানসভার গঙ্গাজলঘাঁটি থানার নিত্যানন্দপুর অঞ্চলের সুবিয়াড়া গ্রামের ৫৭টি পরিবার তৃণমূলে যোগদান করল।
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি দেবদাস বাজপাই সাংগঠনিক নেতা হিসেবে একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে পরিচিত। কিন্তু তা সত্বেও নির্বাচনের আগে এই নিত্যানন্দপুর অঞ্চল থেকে কয়েকশ পরিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তারা প্রায় সবাই ফিরে এসেছেন। এতগুলো পরিবার বিজেপিতে যাওয়ার পরেও ভোটের ফলাফলে এই অঞ্চল থেকে বিধায়ক অলক মুখার্জি বিজেপির থেকে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এদিন সেই বিধায়ক অলক মুখার্জির হাত ধরেই বিজেপির অঞ্চল সভাপতি প্রকাশ দাস সহ গ্রামের ৫৭টি পরিবার তৃণমূলে যোগ দিলেন। এই যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা কমিটির নেতা প্রাক্তন বিধায়ক আশুতোষ মুখার্জি, পঞ্চায়েত প্রধান তারাশঙ্কর মন্ডল, গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ জিতেন গরাই সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিধায়ক অলক মুখার্জির হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা ধরে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদানকারী প্রকাশ দাস বলেন, আমি স্কুল জীবন থেকে অটলবিহারী বাজপেয়ীর ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সেই থেকে বিজেপিও আমাকে টানতো। কলেজে পড়ার সময় এবিভিপি করেছি। কিন্তু গত ৫-৬ বছর ধরে লক্ষ্য করছি নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতা পেয়ে সমস্ত জাতীয় সম্পদ বিক্রি করছেন। চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে বিরোধী নেতা নেত্রীদের পিছনে এজেন্সি লেলিয়ে দিয়েছেন। কৃষক আন্দোলনকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। দলীয় সংগঠনের উপর নিজের মতামত চাপিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জির গুচ্ছ গুচ্ছ জনমুখি প্রকল্প নিচুতলার মানুষের কাছে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে আমি এবং আমার সঙ্গে আরও প্রায় দেড়শ জন ভোটার তৃণমূলে যোগ দিলাম।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত অগস্থি বলেন, তৃণমূল থেকে যারা বিজেপিতে ক্ষীরের লাড্ডু খাওয়ার আশায় এসেছিলেন তারাই তৃণমূলে যাচ্ছেন। এতে বিজেপির মঙ্গলই হচ্ছে। বিজেপি নেতার এই কটাক্ষের জবাবে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি দেবদাস বাজপেয়ী বলেন, এখন তো ওদের কাছে আঙুর ফল টক হবেই।

