প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৭ জুন: রাতের অন্ধকারে উত্তর ২৪ পরগণার কামারহাটির তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের ফ্ল্যাট থেকে ৫০টি কৌটো বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে কমারহাটির আনোয়ার বাগান এলাকায়। শনিবার গভীর রাতে বোমা মজুত থাকার খবর পেয়ে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ ও বেলঘরিয়া থানার পুলিশ যৌথভাবে হানা দেয় কামারহাটির আনোয়ার বাগান এলাকার ওই ফ্ল্যাটে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কামারহাটির আনোয়ার বাগান এলাকায় স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর হলেন কালাম উদ্দিন আনসারী। সেই তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে চন্দন আনসারীর ফ্ল্যাট থেকে শনিবার গভীর রাতে ৫০টি শক্তিশালী কৌটো বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। যদিও তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে চন্দন আনসারী এই ঘটনার পর থেকে পলাতক। তবে বোমা উদ্ধারকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে ওই ফ্ল্যাটটি একজনকে ভাড়া দিয়েছেন। ফ্ল্যাটের ভাড়াটে ফ্ল্যাট বন্ধ করে ৩ মাস হল বিহার চলে গেছিলেন। শনিবার তিনি কামারহাটিতে ফিরে ফ্ল্যাটে যান আর সেখানে তালা খুলে ভেতরে গিয়ে কয়েকটি ব্যাগ দেখতে পান। আর সেই ব্যাগ খুলতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। তিনি ব্যাগ ভর্তি কৌট বোমা দেখতে পান। এরপর তিনি ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের বিষয়টি জানান। বন্ধ ফ্ল্যাটে কী করে কৌটো বোমা এল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সন্দেহ গিয়ে পড়ে কাউন্সিলরের ছেলের ওপর। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ওই বোমাগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যান।
এই বোমা উদ্ধারের ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ওই গোটা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিষয়ে ভয় প্রকাশ করে বলেন, “বোমা গুলি ফ্ল্যাটের ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডারের পাশে রাখা ছিল। আর ওগুলি যদি কোনও ভাবে ফটত তাহলে এই পুরো বিল্ডিংটা উড়ে যেত। দিনে দিনে এই সমস্ত এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার।”
এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা, দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারে দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ। সেই সঙ্গে চন্দন আনসারীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করছে পুলিশ।

