ড্রোন নজরদারির মধ্যেই ৫০ লাখের দিঘায় প্যারাগ্লাইডিং, সি- বোটিং

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৫
ডিসেম্বর: বড়দিনে পর্যটকের ভিড়ে পরিপূর্ণ দিঘার সমুদ্র সৈকত। প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়েছে বলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। নতুন পুরনো মিলিয়ে ৭০০ হোটেল রয়েছে দিঘায়। শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুরে আরও প্রায় শ’তিনেক। কিন্তু জায়গা নেই কোথাও। এই হাজার হোটেলের পাশাপাশি শুক্রবার রাতেই ১০০% বুকিং হয়েছে দিঘা থেকে উদয়পুরের মধ্যবর্তী ছোট বড় আরও ৫০০ হোম-স্টে। সেগুলিতে কেউ রেখেছেন ৪জনের পরিবার তো কেউ ঠাঁই দিতে পেরেছেন ৬জনকে।

সব মিলিয়ে শুক্রবার রাতে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুরের হোটেল ও হোম স্টে  গুলিতে রাত কাটিয়েছেন ১০ হাজার মানুষ। শুক্রবার রাত থেকে বাকি মানুষ আসতে শুরু করেন ছোট বড় গাড়ি, বাস ভাড়া করে। বাইকের তো সীমা পরিসীমাই নেই। বড়দিন, শনিবারের দিঘায় অর্ধলক্ষ পর্যটক। গত ২ বছর ধরে লকডাউনের মার যেন একদিনেই পুষিয়ে নিয়েছে দিঘা।

সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল ছেড়ে পর্যটকরা ঝাঁপিয়ে পড়েন বিচে। শুরু হয়ে যায় প্যারাগ্লাইডিং থেকে সি-বোটিং ও সমুদ্র স্নানের উন্মাদনা।  দু’দিন ধরে ঘুম নেই দিঘা ও দিঘা কোস্টাল থানার। ২ ডজন আধিকারিকের নেতৃত্বে শ’খানেক পুলিশ কর্মী, সিভিক আর প্রশিক্ষিত নুলিয়ার চোখ সমুদ্রের ওপর।

আকাশে উড়েছে ড্রোন ক্যামেরা। সমুদ্রে কোনরকম যাতে বিপদ না ঘটে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর প্রশাসনের। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পর্যটকরা মাস্ক পরছেন কি না, তার ওপরে নজরদারি চালাতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ছিল পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর থেকে পাঠানো হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং মহিলা কমব্যাট বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি সমুদ্রে নজরদারি চালায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

শুক্রবারই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে সেলফি জ়োন ও পিকনিক স্পট চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। শহর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমায়েত এড়াতেই এমন ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক মানস কুমার মন্ডল। বড়দিনে দিঘায় যে ব্যাপক ভিড়ের অনুমান ছিল শনিবার সকাল ৯টার মধ্যেই সেই অনুমান মিলে যায়। বীরভূম থেকে বনগাঁ, কালনা-কলকাতা, মালদা, মেদিনীপুরের গাড়ির ঢল নামে পিকনিক স্পট গুলিতে”

ঝাউয়ের জঙ্গল, সমুদ্রের পাড় কোথাও তিলধারনের জায়গা ছিল না। অমরাবতী পার্ক থেকে সায়েন্স সেন্টারে ভিড় উপচে পড়ে। তবে সমস্ত জায়গাতেই কোভিড বিধি মেনে চলতে বলা হয় ব্যবসায়ী-পর্যটক সকলকেই। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিশেষ তৎপর ছিল প্রশাসন। বিভিন্ন দ্রষ্টব্য জায়গায় যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে সে জন্য ড্রোনের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অমরনাথকে।

তবে শনিবারের সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছে সমুদ্রই। চলতি মরশুমে সেই ভাবে বাঙালির রসনা তৃপ্ত করতে পারেনি দিঘা। ওঠেনি তেমন পরিমাণ ইলিশ। কিন্ত বড়দিনের ভোর ৫:৩০ নাগাদ দিঘা মোহনার বেশ কয়েকটি আড়তে দেখা মেলে রুপোলি ইলিশের। প্রায় দেড় হাজার কিলো মাছ ওঠে এদিন। দিঘা মোহনার ফিস এন্ড ফিস ট্রেডার্সের পক্ষে সম্পাদক শ্যাম সুন্দর দাস বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে প্রকৃতির পরিবর্তনে মৎস্য প্রাণীকূলেরও পরিবর্তন ঘটছে। এই সময় দেখা যেত একটু ছোট সাইজের ইলিশ। বড় মাছ ডিম পাড়ার পর দেখা মিলল এই বেশি ওজনের ইলিশের। তিনি জানান, লক্ষণীয় বিষয়, মাছের ওজন ১কেজি, ১২০০ এবং দেড় কেজি। জলের ঘূর্ণায়ন ও প্রচুর পরিমাণে দক্ষিণ উপকূলে বৃষ্টিতে স্রোতের পরিবর্তন হয়েছে। তাতেই মাছের দেখা মিলছে। দক্ষিণ পূর্ব দিক দিয়ে মাছগুলো গভীর সমুদ্রে যায়। বিশেষ করে পড়শি রাজ্য ওড়িশায় এই মাছের দেখা বেশি মিলছে। বড়দিনে পাতে ইলিশ পেয়ে খুশি বাংলা ও বাঙালি। সব মিলিয়ে এবারের বড়দিনে দিঘা যেন আনন্দের কল্পতরু।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *